সাভারে পোশাক কারখানায় সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর, গুলিবর্ষণ
|
|
সাভার, ০৮ ফেব্র“য়ারী (রেডটাইমস বিডি ডটকম)
সাভারের খেজুর বাগান এলাকায় রপ্তানীমুখী একটি তৈরী পোশাক কারখানায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সোমবার দুপুরে একদল সন্ত্রাসী অর্তকিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এতে দুই জন পরিচালকসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়। সন্ত্রাসীরা শ্রমিকদের বেতনের জন্য রক্ষিত ২৫ লাখ টাকা লুট করে। অপহরণ করে দুই জন সিকিউরিটি গার্ডকে।
শ্রমিকরা ধাওয়া করে ৩ জন সন্ত্রাসীকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে-সাভারের আড়াগাঁও এলাকার হাজী শেহের আলীর পুত্র নুরুল আমিন (২৮), কাকাবর এলাকার মৃত আতাউল্লাহর পুত্র সাইদুর রহমান ও আফাজ উদ্দিনের পুত্র আক্তার হোসেন (২৫)।
খেজুর বাগান এলাকার ‘ক্রিস্টাল কম্পোজিট লিমিটেড’র পরিচালক আহত ফিরোজ হোসেন জানান, গত দেড় মাস আগে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক নিয়ে ফ্যাক্টরীটি চালু করা হয়েছে। গত ২০/২৫ দিন আগে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি ফোন করে তাদের ঝুটের ব্যবসা দিতে বলে। কিন্তু তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন।
একপর্যায়ে সোমবার দুপুরে ৫/৬ টি দামী গাড়ী নিয়ে ৩০/৩৫ জনের একদল সন্ত্রাসী তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষন করে কারখানার ভিতর আতঙ্ক সৃষ্টি করে কারখানার জানালা, দরজার গ্লাস, মেশিনারীজ, জেনারেটর, আসবাব পত্র, ল্যাবরেটরীজসহ মূল্যবান সামগ্রী ব্যাপক ভাংচুর চালায়।
পরে সন্ত্রাসীরা হিসাব কক্ষে হামলা চালিয়ে শ্রমিকদের বেতনের জন্য রক্ষিত ২৫ লাখ টাকা লুট করে। এসময় সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গেলে কারখানার পরিচালক ফিরোজ হোসেন ও তার ভাই সেলিম হোসেনকে মারধর করে। সন্ত্রাসীরা বেরিয়ে যাওয়ার সময় কর্তব্যরত দুই জন সিকিউরিটি গার্ড আব্দুর রাজ্জাক ও রমজান আলীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এসময় শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করলে সন্ত্রাসীরা ফ্যাক্টরীতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। শ্রমিকরাও ফ্যাক্টরীর ভিতর থেকে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে আধা ঘন্টাব্যাপী চলে ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া। এতে প্রায় ২৫/৩০ জন শ্রমিক আহত হয়।
একপর্যায়ে গাড়ী নিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তিন জন সন্ত্রাসীকে আটক করে গণধোলাই দেয়। ভাংচুর করে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি পাজেরো ও একটি প্রাইভেট কার। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের রোসানল থেকে মূমূর্ষূ অবস্থায় তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আশুলিয়া থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। আহত অবস্থায় গ্রেফতারকৃত তিন সন্ত্রাসীকে নয়ারহাটের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে অপহৃত দুই সিকিউরিটি গার্ডকে উদ্ধারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তবে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় মামলা দায়ের করা হবে বলেও ওসি জানায়। পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ভাংচুরকৃত দুটি গাড়ীর মধ্যে প্রাইভেটকারটি গ্রেফতারকৃতদের স্বজনা নিয়ে যাওয়ার সময় ফ্যাক্টরীর শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষ ওসিকে জানালে তিনি বলেন, গাড়ি নিয়ে যেতে এসেছে নিতে দেন, ঝামেলা করার দরকার কি?
‘ক্রিস্টাল কম্পোজিট লিমিটেড’র অপর পরিচালক আহত সেলিম হোসেন জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে কিন্তু পুলিশ নিরব ভুমিকা পালন করে। তিনি বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে গামের্ন্টস শিল্পকারখানা বন্ধ করে দিয়ে আমাদের চলে যেতে হবে।
ফিরোজ হোসেন আরও জানান, সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ডাইং ল্যাব ভাংচুর করায় তাদের কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। পুনরায় উৎপাদন চালু হতে আরও ১৫/২০ দিন সময় লাগবে বলে তিনি জানান। এ উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় ১৫ ফেব্র“য়ারী জার্মান ও ফ্রান্সের শিপমেন্ট বাতিল করতে হবে তাদের। সব মিলিয়ে তাদের ৪ কোটি টাকার লোকসান গুনতে হবে বলেও তিনি জানান।
বিকাল ৫ টার দিকে তিনি ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও সন্ত্রাসীদের একটি গ্র“প ফ্যাক্টরীর বাহিরে সড়কে মারমুখী অবস্থানে রয়েছে। অবরোদ্ধ করে রেখেছে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের। কোন শ্রমিক বাহিরে বেরুলেই তারা তাদের মারধর করছে। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে খেজুর বাগান এলাকায়।
রেডটাইমস বিডি ডটকম/প্রতিনিধি/ওও/এসডি
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of redtimesbd.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. |
| |
| |
| |
|
|
|
| |
| Related News |
| No more Related News Found |
|
|
| |
|
|
|
|
| |
| |
|
|
|