অনিয়ম ঠেকাতে বাংলা একাডেমীর কঠোর নিয়ম
|
|
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ০৮, রেডটাইমস বিডি ডটকম অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর নিয়ম করতে যাচ্ছে বাংলা একাডেমী। মেলা শুরুর আগে ডাক-ঢোল পিটিয়ে বাংলা একাডেমী এক প্রকাশনীর বই অন্য প্রকাশনীর স্টলে রাখা এবং নেটবই (ভেতরের পাতা বাদ দিয়ে ছাপানো বইয়ের সস্তা সংস্করণ) বিক্রির ব্যাপারে ছিল কঠোর অবস্থানে।
কপিরাইট টাস্কফোর্স প্রায় প্রতিদিন মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে এক প্রকাশনীর বই অন্য প্রকাশনীতে বিক্রি হচ্ছে কি-না তা পর্যবেন করছে। নেটবই বিক্রি ঠেকাতেও রাখছে তীক্ষ্ম দৃষ্টি।
গতকাল মেলা ঘুরে এই কপিরাইট টাস্কফোর্স নেটবই বিক্রির অভিযোগে ৫টি স্টল বন্ধ করে দেয় এবং সতর্ক করে দেওয়া হয় প্রায় ১৫টি’র মত স্টলকে।
১৫টি স্টলকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে সেখানে আগামী দিনও যদি নেটবই পাওয়া যায় তাহলে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানালেন কটিপ রাইট প্রধান।
এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমী পরিচালক সাহিদা খাতুন রেডটাইমস বিডি ডটকমকে জানান, নিয়ম না মানায় গতকাল ৫টি স্টল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি অন্যান্য স্টল তাদের অনিয়ম বন্ধ না করে তাহলে কঠোর প্রদক্ষেপ গ্রহন করতে বাধ্য হবে বাংলা একাডেমী।
অনেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক চিঠি পায়নি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঐ ৫টি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ইতিমধ্যে আরও ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমীর কাছে সেই চিঠির কপিও রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের নিয়ম-অনিয়ম যাই করুক পাঠক চায় সুস্থ পরিবেশে ভালো বই কিনতে যাতে পারে।
এদিকে মেলার ৮ম দিন সোমবারও বইমেলায় ক্রেতা-দর্শকের ঢল নামে। দুপুর ৩টায় মেলা শুরু হলেও ক্রেতা-দর্শকের ভিড় বাড়তে থাকে মূলত বিকেলে। সন্ধ্যায় মেলা ছিল পুরো দমে জমজমাট।
স্টলে স্টলে ক্রেতার ভিড় ছিল উল্লেখ করার মতো। বই বিক্রির অবস্থাও ছিল বেশ ভালো।
আজও কবি, সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী ও টিভি পর্দার চিত্রতারকারা মেলায় এসেছেন। ঘুরেছেন পুরো মেলা চত্ত্বর। কিনেছেন বই। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
আজ সোমবার মেলার নজরুল মঞ্চে ১৪টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে মিলা মাহফুজ রহমানের ‘জীবনান্দ দাস’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’র সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবূ সায়ীদ। বইটি প্রকাশ করেছে মুক্ত প্রকাশ।
মহসীন হোসাইন এর ‘রমেশ শীল’ বইটি’র মোড়ক উন্মোচন করেন শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক কামাল লোহানী। বইটি প্রকাশ করেছে মুক্ত প্রকাশ।
ইকবাল হোসেন মিয়াজীর ‘নেই তো’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন। বইটি প্রকাশ করেছে মিয়াজী পাবলিকেশন্স।
লস্কর শাহীর শোভনের ‘লাল তুলি’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বইটি প্রকাশ করেছে বিদ্যা প্রকাশ।
মোঃ আবূ সেলিমের ‘পটল মামার টিউশনি’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন গীতিকার কেজি মোস্তফা।
‘একটা গোপন কথা’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন গায়ক তপু। আজ ৮ষ্ঠ দিনে মেলায় বই এসেছে মোট ১০১টি।
এর মধ্যে গল্প ১২টি, উপন্যাস ২১টি, প্রবন্ধ ৫টি, কবিতা ২৪টি, গবেষণা ৩টি, ছড়া ৮টি, শিশুসাহিত্য ৬টি, জীবনী ২টি, মুক্তিযুদ্ধ ১টি, নাটক ১টি, গণিত বিজ্ঞান ৪টি, ভ্রমণ ১টি, ইতিহাস ২টি, রম্য/ধাঁধা ২টি, অভিধান ১টি, সাইন্স ফিকশন ৩টি ও অন্যান্য ৬টি বইসহ মোট ১০১ টি বের হয়েছে।
এর মধ্যে অজয় দাশগুপ্ত ও রোবায়েত ফেরদৌস অনুবাদকৃত ‘ ব্যবসায় সাংবাদিকতা’ বইটি বের করেছে শ্রাবণী প্রকাশনী। কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনর ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প’ বইটি বের করেছে ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ।
শিরিন পাবলিকেশন্স থেকে বের করেছে নাট্য ব্যক্তিত্ত্ব ফাল্গুনী হামিদের উপন্যাস ‘মধ্যরাতের ছায়া’ বইটি। ছড়াকার লুৎফুর রহমান রিটনের ‘আমার একটা বিড়াল ছিল’ বইটি বের করেছে পাঞ্চেরী পাবলিকেশন্স। সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্ম্দ ফরাসউদ্দিনের ‘প্রথম দর্শনে বঙ্গবন্ধু’ বইটি বের করেছে আগামী প্রকাশনী।
কবি আল মাহমুদের উপন্যাস ‘চরণ ধ্বনি’ বইটি প্রকাশ করেছে একুশে বাংলা। কবি আসলাম সানীর ছড়ার বই ‘আমাদের ছড়াগুলো ছোটে ছোটে ঝাঁকে ঝাঁকে’ বইটি বের করেছে দি রয়েল পাবলিকিশেন্স। তরুণ লেখিকা সাতিয়া মুনতাহা নিশার কবিতার বই ‘নোনা শিহরণ’ বইটি প্রকাশ করেছে পলল প্রকাশনী।
সোমবার বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘ভাষা-শহীদ আব্দুল জব্বার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আখতার হুসেন।
আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক আশরাফউজ্জামান সেলিম, অধ্যাপক ড. আব্দুস সেলিম এবং জনাব ফরিদ আহমদ দুলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্যসচিব কবি কামাল চৌধুরী।
তথ্য সচীব কামাল চৌধুরী সভাপতির ভাষণে বলেন, ভাষা-শহীদেরা যেভাবেই প্রাণ বিসর্জন করুক সে বিষয়ের চেয়ে তাঁদের রক্তের অনুপ্রেরণা আমাদের পথিকৃৎ।
আমাদের পূর্বসুরী যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই দেশ তাঁদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা প্রয়োজন; প্রয়োজন তাঁদের ইতিহাস সঠিকভাবে লেখা।
ভাষা-আন্দোলনের চেতনা, স্বাধীনতার চেতনা উপলব্ধির জন্য সঠিক ইতিহাস-সমৃদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেখান থেকে জাতি সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে এবং জাতি সমৃদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, বাংলা ভাষা বিপন্ন ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজকাল আমরা রোমান হরফে বাংলা ভাষাচর্চা করছি। ভাষার এই অপব্যবহার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করে আবৃত্তি সংগঠন ‘কণ্ঠশীলন’ এবং দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ওস্তাদ মমতাজ আলী খান ।
যন্ত্রাণুসঙ্গে ছিলেন শিল্পী শফিকুল ইসলাম, হাসান আলী, রাসেল সরকার ও সাজেদা বেগম বেবী।
রেডটাইমস বিডি ডটকম/ওও/আর এস
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of redtimesbd.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. |
| |
| |
| |
|
|
|
| |
| Related News |
| No more Related News Found |
|
|
| |
|
|
|
|
| |
| |
|
|
|