চাকুরী হারানোর আশংকায় সহস্রাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী
|
|
গাজীপুর, ২৯ জুলাই, রেডটাইমস বিডি ডটকম:
বিস্তারিত জানাচ্ছেন রেডটাইমস বিডি ডটকমের গাজীপুর বিশেষ প্রতিনিধি এ কে এম রিপন আনসারী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রধিক শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী কে দীর্ঘ ছয় বছর পর পর্যায়ক্রমে চাকুরীচ্যুত করার প্রক্রিয়া গত ২৬ জুলাই তারিখ একটি অনানুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।
গত সোমবার অনুষ্ঠিতএ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার ছাড়া ও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ শাহ আলম এম.পি. জনাব ফারুক কাদের এমপি এবং গাজীপুর ১ আসনের এম.পি এডভোটেক আ.ক.মোজাম্মেল হক।
আগামী ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে এ পক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে বৈঠকে সুত্রে জানা যায়।
সুত্র জানায় গাজীপুরে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। গাজীপুরের ০১আসনের সাংসদ তাঁর নির্বাচনী এলাকার বাইরের প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধি অনুসারে জোট আমলের নিয়োগ ও অন্যান্য অনিয়ম তদন্তের জন্য নোটিশ প্রদান করেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষামন্ত্রনালয়ের সুত্র নং শিম/শা:৪/ কাউন্সিল-২ ২০০৯ /২০০৮ তারিখ ১০/০৪/০৯ পত্রের আলোকে ১৮/০৪/২০০৯ তারিখে অনুষ্ঠিত ১১২ তম সিন্ডিকেটে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে।
কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিসহ গত ২৭/১/২০১০ তারিখে ৬২৪ পৃষ্ঠায় তদন্ত রির্পোটটি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীও শিক্ষামন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির নিকট পেশ করেন।
গত ১ জুলাই শিক্ষামন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি বৈঠকে বসে তা রিভিউ করার জন্য দুইজন সিন্ডিকেট সদস্যদে দায়িত্ব প্রদান করেন। তাঁরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. খাইরুল আলম ও প্রফেসর ড. আবদুস সামাদ ইতোমধ্যে তারা প্রতিবেদনা পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে জমাদেন।
এ সংক্রান্ত খবর একটি দৈনিকে সহ বিভিন্ন মাধ্যমে গত ২৭/০৭/২০১০ তারিখে প্রকাশিত হলে তাৎক্ষনিকভাবে চাকুরীচ্যুতির আশংকায় প্রায় সকল শিক্ষক কর্মকর্তাা কর্মচারী এক প্রতিবাদসভা ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন।
তারা সকাল ১০টিা থেকে দুপুর ১টা আবার বিকাল ৩টা থেকে ৪.৩০ পর্যন্ত এ কর্মসুচী অব্যাহত রাখেন। সভা থেকে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ ও প্রোভিসি প্রফেসর তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী সাথে সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিনিধি দল এ মর্মে ভিসি এবং প্রোভিসি কে অবহিত করোন যে, নিয়োগের বিষয়ে একটি মামলা মাননীয় সুপ্রিমকোটের হাইকোট বিভাগ থেকে ২২/৮/২০০৬ তারিখে খারিজ হয়ে যায়।
এছাড়া বর্তমানে গাজীপুর, ধানমন্ডিও শাহাবাগ থানায় ০৪টি মামলা চলছে। বির্তকিত তদন্ত রির্পোটের আলোকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ ধরণের কোন সিদ্ধন্ত গ্রহণ না করার জন্য অনুরোধ জানান। তারা বলেন আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন অনুযায়ী যা হবে তা আমরা মেনে নেব।
তারা আরো বলেন আমরা বৈধভাবে চাকুরী নিয়েছি, আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে, ব্যাংক ড্রাফ্ট দিয়ে দরখাস্ত করে, ইন্টারভিউ কার্ড পেয়ে, সিলেশন বোর্ড ও সিন্ডিকেটের সুপারিশে চাকুরীতে যোগদান করেছি। ইতো মধ্যে আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হয়েছে।
কোন ত্র“টির জন্যে আমরা দায়ী নই, প্রতিনিধি দল আরো বলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০০ শিক্ষক, কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছিলেন তাদের নিয়োগ ইউজিসি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী হয়নি। তাদের জন্য কোন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়নি। ইন্টারভিউ কার্ড দেয়া হয়নি। ব্যাংক ড্রাফ্ট সহ কোন দরখাস্ত করে নি। কোন সিলেকশান বোড ও হয়নি।
সকলেই এডহকে নিয়োগ পেয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত পদোন্নতি সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করে চাকুরী করে আসছেন। তদন্ত হলে প্রতিষ্ঠা থেকে এ পর্যন্ত নিরপেক্ষভাবে সকল বিষয়ে তদন্ত করতে হবে। তারা আরো বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘরে ঘরে চাকুরী দেওযা অঙ্গীকার করেছিলেন। চাকুরী খাওয়ার জন্য নয়।
বক্তরা এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুবিবেচনা কামনা করেন। প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনায় ভাইস-চ্যান্সলর বলেন, সিন্ডিকেট এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। এই বিষয়ে আমার কিছুই করণীয় নেই। এর বাইরে আমি কিছু বলতে পারবনা। প্রতিনিধিদল ভিসির কথায় সন্তোজনক না হয়ে অদ্য ২৯/৭/১০ তারিখ সকাল ১০টায় থেকে অবস্থান ধর্মঘটের কর্মসুচী ঘোষণা করেন।
বক্তরা বলেন যদি বৃহস্পতিবারের মধ্যে সন্তোজনক জবাব কর্তৃপক্ষ থেকে না পাওয়া যায় তাহলে সিন্ডিকেটের সভা ঘেরাও, কর্মরিবতী , মানব বন্ধন, সাংবাদিক সম্মেলন, মাননীয় সংসদ সদস্য আ ক ম মোজ্জাম্মেল হকের বাড়ী ঘেরাও কর্মসূচী সহ আরও কঠোর কঠোর কর্মসুচী দেওয়া হবে বলেও প্রতিবাদ সমাবেশে ঘোষণা দেয়া হয়।
চাকুরী রক্ষা াকমিটির সদস্য সচিব ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিশেনের দপ্তর সম্পাদক জনাব মিয়া হোসেন রানার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন ড. মীর-মঞ্জুর মাহমুদ, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, জনাব রেজাউল হাসান চৌধুরী, উপ-পরিচালক , জনাব নাজিম উদ্দিন আহমদ শিশিম, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশন, জনাব জহির উদ্দিন, সহ-সভাপতি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশন, জনাব বশির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশন, জনাব আবু হানিফ খন্দকার, প্রমুখ।
উল্লেখ্য যে, জোট আমলের নিয়োগ নিয়ে ইতঃপূর্বে বিজ্ঞ এ্যাডভোকেট ফাজলে রাব্বী বাদী হয়ে ২০০৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়াত ভিসি ড. আফতাব আহমাদের নিয়োগ প্রাপ্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকুরী অবৈধ ঘোষনার জন্য মামলা দায়ের করেন। যার মামলানং-৫১২/২০০৪।
রীট পিটিশনটির উপর মহামান্য হাইকোট ডিভিশনের দ্বৈত বেঞ্চে ১০.০৮. ২০০৬, ১৫.০৮.২০০৬ এবং ১৭.০৮.২০০৬ তারিখে উভয়পক্ষের শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।
উভয়পক্ষের শুনানী শেষে মহামান্য হাইকোর্টে ডিভিশন ২২.০৮.২০০৬ তারিখের নিয়োগ প্রাপ্তদের পক্ষে রায় প্রদান করে রীটটি খারিজ করে দেন। এডভোকেট ফজলে রাব্বী মহামান্য হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপীল ও দায়ের করেন নি।
মামলাটির খারিজ হওয়ার প্রায় ১ বছর ৮মাস পর এই নিয়োগনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জালসনদদারী প্রভাষক হাফিজুর রহমান গাজীপুরে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং ৮৪(০৪) ২০০৮ । মামলাটি গাজীপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন। একই বিষয়ে উক্ত বাদী কয়েক জন বিবাদী ও স্বাক্ষী পরবর্তন করে ধানমন্ডিথানায় একটি মামলা যার নং ১৭ ৫) ২০০৯ আরও দুটি মামলা শাহাবাগ থানায় দায়ের করেন যার নং ১২(৫) ২০০৯ ও ৯৯ (৫) ২০০৯ দায়ের করেন।
অপরদিকে ভুয়া সনদ, ভুয়া অজ্ঞিতা পত্র, কোন প্রকার বিজ্ঞাপন ও সিলেকশান বোর্ড ব্যতিত অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত কথিত প্রভাষক হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত জনৈক্য মাহবুবুর রহমান গাজীপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং ৮৯/ ২০০৮ ।
তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পুলিশ র্চাজশীট ও প্রদান করে। তার বিরুদ্ধে আদালত সমন জারীকরলে সে জামিন নেয়। বর্তমানে মামলাটি গাজীপুর জেলা জজ আদালতে বিচারধীন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এমতবস্থায় চাকরীরতদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার সিদ্ধান্ত নিলে আদালত অবমাননারই শামিল হবে।
সূত্র আরও জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ তদন্ত কার্যক্রম, পদন্নোতি প্রদান, বিভিন্ন পর্যায়ে বদলি করে কর্মহীন করা, অভিজ্ঞদের কমগুরুত্ব পদে পদায়ন, সিনিয়রদের ডিঙ্গিয়ে জুনিয়রদের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব প্রদান সহ নানা তদবিরের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
গত ৫ জুলাই দুজন ডীন নিয়োগ দেয়া হয়েছে সাবেক বিতর্কিত ভারপাপ্ত ভিসি সৈয়দ রাশেদুল হাসানের ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি লঙ্গন করে ।
এছাড়াও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, কলেজ পরিদর্শক, তিন জন ডীন, অর্থ-হিসাব শাখার পরিচালক, প্রকৌশল দপ্তর, অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা দপ্তর, শারিরীক শিক্ষা দপ্তর, তথ্যও পরামর্শ দপ্তর, এমফিল ও পিএইচডি ইউনিট ও লাইব্রেরিয়ান সহ ১২ টি পদে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
যার ফলশ্র“তিতে চেইন অব কমান্ড অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কাজ হচ্ছে না। একজন প্রো-ভিসি ও রেজিষ্ট্রারের কোন্দল ও এর জন্য কম দায়ী নয়। কর্তৃপক্ষের চেষ্টার পরও কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে পারছেন না।
এই অবস্থায় আগামী ৩১ জুলাই শনিবার অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেটে কোন ধরণের অঘটন ঘটলে অধিভুক্ত ১৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি আরো অবনতিরি দিকে যেতে পারে। রেডটাইমস বিডি ডটকম/ প্রতিনিধি/ ই এইচ/ আই এইচ
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of redtimesbd.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. |
| |
| |
| |
|
|
|
| |
| Related News |
| No more Related News Found |
|
|
| |
|
|
|
|
| |
| |
|
|
|