হুমায়রা রাত্রি
রেডটাইমস বিডি ডটকমের প্রতিবেদক
চলচ্চিত্র সাংবাদিক আবদুল্লাহ জেয়াদ দীর্ঘদিন গবেষণার পর চলচ্চিত্রবাসীকে উপহার দিয়েছেন দুর্লভ একটি গ্রন্থ। যার নাম 'বাংলাদেশের চলচ্চিত্র : পাঁচ দশকের ইতিহাস' পুরো গবেষণাধর্মী দীর্ঘ কলেবরের অসাধারণ একটি গ্রন্থ।
পঞ্চাশ বছরের চল”িচত্র ইতিহাস এক মলাটে বন্দি করেছেন তিনি। এফডিসির ইতিহাস থেকে ডিজিটাল কমপ্লেক্স সেন্সর বোর্ড, ফিল্ম আর্কাইভ, বিদেশি ছবি নির্মাণের নীতিমালাসহ অনেক বিষয় এ গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চলচ্চিত্র সংসদ, চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা এবং চলচ্চিত্র ও মিডিয়ার বর্তমান প্রেক্ষাপট জেয়াদ নির্মোহ দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন।
চলচ্চিত্রের নানা উৎসব ও পুরস্কারের কথা এসেছে এ গ্রন্থে। এযাবত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের নামের তালিকা গ্রন্থটিতে সংযোজিত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত অস্কার পুরস্কার সম্পর্কে পাঠকদের সম্যক একটা ধারণা দেবার প্রচেষ্টা লক্ষণীয়।
চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত অভিনেতা-অভিনেত্রী, প্রযোজক, পরিচালক ও বিভিন্ন শাখার কলা-কুশলীসহ প্রায় এক হাজার ব্যক্তির পরিচিতি ছবিসহ উপস্থাপিত হয়েছে। অনেক শিল্পী, কলা-কুশলী পরলোকগত হয়েছেন। তাদের অনেকেই বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। আবদুল্লাহ জেয়াদ তাদের ছবি ও পরিচিতি বর্তমান প্রজন্মের সামনে নতুন করে তুলে ধরেছেন তার বইটিতে।
‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র: পাঁচ দশকের ইতিহাস’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একটি মাইলফলক এবং চলচ্চিত্রের দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। এ গ্রš’টিতে বাংলাদেশের চল”িচত্রের ইতিহাস নির্মোহ ও নিরপেক্ষভঙ্গিতে যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তা বিস্ময়কর। এর পাশাপাশি আছে চলচ্চিত্রের জন্মকথাÑবিশ্ব চলচ্চিত্র সম্পর্কে আলোকপাত। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সূত্রপাত থেকে শুরু করে এ শিল্প কিভাবে এতোটা পথ এগিয়েছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ রয়েছে।
বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে মোট ১১টি অধ্যায়ে উপঅধ্যায় আছে পঞ্চাশের অধিক। মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণ আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, রাজনৈতিক ছবি, সাহিত্যে, লোককাহিনী, জীবনীভিত্তিক কাহিনী সহ নানাবিষয় আমাদের চলচ্চিত্রের অপরিহার্য বিষয়। তথ্যচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, শিশুতোষ চলচ্চিত্র, আর্টফিল্ম, ডিজিটাল সিনেমা, মোবাইল সিনেমা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আরেক উল্লেখ্যযোগ্য সংযোজন।
সময়ের সিঁড়ি ধরে চলচ্চিত্রে এসেছে নানা আঙ্গিকগত পরিবর্তন। সেসব বিষয় সহ অনুদানের ছবিগুলোর গুণগতমান এবং অনুদানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ বা স্ব”ছতা কতোটা কাজ করে, রাজনীতি বা দলীয় ব্যাপারটি কিভাবে যুক্ত এসব বিষয় এ গ্রন্থে এসেছে। চলচ্চিত্রের অপরিহার্য অংশ প্রেক্ষাগৃহ। প্রেক্ষাগৃহগুলোও সুস্থ পরিবেশ হারাচ্ছে। চলচ্চিত্র শিল্প থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব গ্রহণ করলেও এ শিল্পের নানামাত্রিক উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা উদাসীন -এবিষয়েও আছে আলোচনা।
আমাদের অনেক চলচ্চিত্রই আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম কেড়েছে। উজ্জ্বল স্বীকৃতি লাভ করেছে। সম্মাননা অর্জন করেছে। গ্রন্থটিতে এসবের বিস্তর বর্ণনা, বিচার-বিশ্লেষণসহ এযাবত (১৯৫৬-২০০৯) মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সহ তারিখ বছরভিত্তিক উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের দালিলিক ইতিহাস হিসেবে পরিচিত। ৯১৮ পৃষ্ঠার এই বইটির দাম ১ হাজার টাকা। গ্রন্থটি প্রকাশ করে জ্যোতি প্রকাশের কর্ণধার মোস্তফা জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া চলচ্চিত্র সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে বইটি নির্দেশক হিসেবে কাজে লাগবে।
পুরোসন্থ’টি দুর্লভ সব তথ্যসমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে। চরচ্চিত্র সংশ্লিষ্টতো বটেই যে কোনো সচেতন ব্যক্তি মাত্রই সংগ্রহে রাখতে পারেন। বিশেষ করে চলচ্চিত্রবাসীর প্রত্যেকের কাছে এ গ্রন্থটি সংগ্রহে চলচ্চিত্রবাসীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।