দু’জন অভিনেত্রী এত ভাল বন্ধু
|
|
বিনোদন,জুলাই ৮,রেডটাইমস বিডি ডটকম লোকে ভাবতেই পারে না দু’জন অভিনেত্রী এত ভাল বন্ধু
বললেন চান্দ্রেয়ী ঘোষ। দেড় বছর উধাও থেকে ‘মনসা’ হয়ে ফেরা, পরমব্রত থেকে অনন্যা, সব নিয়ে মন খুললেন। মুখোমুখি দেবশ্রুতি রায়চৌধুরী
পত্রিকা: মাঝখানে বহু দিন আপনাকে দেখা যায়নি। তারপর বিরাট ভাবে ফিরে এলেন। রহস্যটা কী? চান্দ্রেয়ী: হ্যাঁ। ‘বন্ধন’ চলাকালীনই অসুস্থ ছিলাম। তার পরে প্রায় দেড় বছর আমাকে দেখা যায়নি। লণ্ডনে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছিল। তাই ৬ মাস কোনও কাজ করা হয়নি। তার পরে যা হয় আর কী। বিশ্রাম নিয়ে নিজেকে কাজের জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে যেতে একটা গ্যাপ তৈরি হয়ে গেল। এই গোটা সময়টায় যে সব কাজ পেয়েছি সেগুলো করতে পারিনি। আবার অনেক সময় মনের মতো চরিত্র পেয়ে কাজ শুরু করতে করতে অনেকটা সময় চলে গেছে।
পত্রিকা: যে কাজটার মাধ্যমে খুব বড় ভাবে ফিরে এলেন সেটা ‘বেহুলা’ সিরিয়ালের মনসা চরিত্র... চান্দ্রেয়ী: চরিত্রটা অসম্ভব ইন্টারেস্টিং। দেবদেবী সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত যে ধারণা থাকে একদম তার বাইরে। চরিত্রটায় দেবত্বের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। মনসা রাগী, জেদি। আবার খুব নরম মনেরও, মানুষের ভাল করতে চায়— চরিত্রটার এই জটিলতাটাই আমাকে আকর্ষণ করেছে। একটু আলাদা ধরনের কাজ করতে ভাল লাগে বলেই হয়তো।
পত্রিকা: ফিরে এসে বড় পর্দায় কোন ধরনের কাজ করতে চাইবেন? প্রসেনজিতের বিপরীতে সিরিয়াস চরিত্র নাকি দেবের সঙ্গে রোম্যান্টিক রোল? চান্দ্রেয়ী: কাজ করার ক্ষেত্রে অমুক বা তমুকের সঙ্গে কাজ করব এ রকম ভাবে কখনও ভাবিনি। কাজটা ভাল হতে হবে, ইন্টারেস্টিং হতে হবে। তার পর যদি সেই চরিত্রটা আমায় মানাচ্ছে বলে মনে হয় তা হলে নিশ্চয়ই করব।
পত্রিকা: আপনার সম্পকে র্ ইণ্ডাষ্ট্রিতে একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে আপনি খুব মুডি। এখন এই প্রচারের যুগেও আপনি লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না... চান্দ্রেয়ী: (হেসে ফেলে) হ্যাঁ এটা বলতেই পারেন। তবে আমি এ রকমই। লোকজনের সঙ্গে বেশি যোগাযোগ কোনও দিনই রাখি না। এটা ঠিকই বলেছেন যে আমাদের প্রফেশনে প্রচারে থাকাটা, নিজেকে মার্কেট করাটা খুব দরকারি। সেটা একেবারে করি না এটা বলাও বোধহয় ঠিক না (আবার হেসে ফেলে)... তবে আমার এ সব করতে ভাল লাগে না। মন থেকে আসে না। স্বাভাবিক ভাবে কিছু হল তো হল, কোনও অফার এল তো ভাল, তা না হলে যেচে পড়ে কোনও কিছু করাটা আমায় দিয়ে হয় না।
আমার বন্ধুরা এটা বোঝে। কয়েক জন খুব ভাল বন্ধু আছে, যারা জানে আমি মাঝে মাঝেই উধাও হয়ে যাব, ফোন ধরব না। আমাকে পাওয়া যাবে না। জানি না ওরা কী করে এ সবের পরেও আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখেছে (হেসে)... আসলে, আমার ধাতটা বুঝে গেছে।
পত্রিকা: অর্থাৎ আপনি যা আপনি তাই এবং এটা পাল্টাবে না? চান্দ্রেয়ী: (আবার হেসে ফেলে) নাহ্, কোনও চান্স দেখছি না।
পত্রিকা: ছবি পরিচালনার মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে ফেলেছেন। তার জন্য নিশ্চয়ই কিছু প্রস্তুতি ছিল? চান্দ্রেয়ী: হ্যাঁ। পরিচালনার ব্যাপারে অনেক দিন ধরেই ভাবনাচিন্তা ছিল। এ ব্যাপারে এক জনের কাছে আমি খুব কৃতজ্ঞ— বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়। ও আমাকে বারবার ইন্সপায়ার করেছে, সাহস দিয়েছে। আমার দু’টো কাজ তখন চলছে। সেগুলো ছেড়ে দিলাম পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করব, নিজেকে তৈরি করব বলে। টানা আট মাস নিজেকে এর জন্য সময় দিয়েছি। আমাকে দেখতে না পাওয়ার আর একটা বড় কারণ এটাও। মানে শরীর খারাপ ছিলই তার সঙ্গে নিজেকে পরিচালক হিসেবে তৈরি করার জন্য সময়ও চাইছিলাম।
পত্রিকা: ছবির কাজ কত দূর? চান্দ্রেয়ী: ছবিটার নাম ‘সম’। শ্যুটিংয়ের কাজ শেষ। পোস্ট-প্রোডাকশন বাকি। ছবির প্রযোজকের কিছু ব্যক্তিগত সমস্যায় কাজটা আটকে ছিল। আর আমিও অসুস্থতার জন্য কাজ করতে পারিনি। সব মিলিয়ে কাজটা শেষ হতে দেরি হয়েছে।
পত্রিকা: ছবির বিষয় কি সমকামী প্রেম? চান্দ্রেয়ী: সমকামী সম্পর্ক ছবির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলতে পারেন। কিন্তু ছবিটা মূলত মানুষের জীবনে বিভিন্ন ধাঁচের সম্পর্কের যে চাওয়া-পাওয়া, সেগুলোকে একটা প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার গল্প।
পত্রিকা: কাদের নিয়ে কাজ করলেন? চান্দ্রেয়ী: মল্লিকা, অনন্যা, সুদীপা, সোহিনী, ঋত্বিক অনেকে মিলে একসঙ্গে কাজ করেছে। পাঁচটা ‘কাপ্ল’-এর গল্প। অনেকগুলো চরিত্র।
পত্রিকা: আপনার আর পরমব্রতর সম্পর্ককে এক সময় ইণ্ডাষ্ট্রির অন্যতম প্রেম বলা হত। সেই সম্পর্ক চলে যাওয়ার পর আপনার জীবনে আর কোনও পুরুষ এল না বলেই কি আপনার সঙ্গে অনন্যার বন্ধুত্বটাকে অন্য চোখে দেখা হয়? চান্দ্রেয়ী: আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই সম্পর্ক আসে। কখনও সেগুলো টেকে, কখনও টেকে না। কিন্তু জীবন এগিয়ে চলে। আমরাও এগিয়ে চলি।
আর অনন্যার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বটাকে হয়তো নানা কারণে নানা ভাবে দেখা হয়। তবে যে কারণটা সব থেকে বড় ভূমিকা পালন করে বলে আমার মনে হয়, সেটা হল লোকে ভাবতেই পারে না দু’জন সমসাময়িক অভিনেত্রী এত ভাল বন্ধু হতে পারে। আমার দু’জন খুুব ভাল বন্ধু আছে—দেবারুণ, যে আমার ১৩-১৪ বছরের বন্ধু। আর অনন্যা, ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব ৭-৮ বছরের। এই এতগুলো বছর আমরা সব সময় একে অপরের পাশে থেকেছি, সেটা নিয়ে লোকের অন্য মতামত থাকতেই পারে... কী করব বলুন? (হাসতে হাসতে) আমি আর অনন্যা তো এই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গেছি!
পত্রিকা: অথচ দেবারুণকে নিয়ে তো কথা হয় না...?
চান্দ্রেয়ী: (হেসে) দেবারুণ তো আর অভিনেতা নয়। না হলে হয়তো হত!
পত্রিকা: ইণ্ডাষ্ট্রিতে প্রথম পা রাখা চান্দ্রেয়ী আর আজকের চান্দ্রেয়ী— এই দুইয়ের মধ্যে তফাত কতটা? চান্দ্রেয়ী: মানুষ ক্রমাগত বদলায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আরও শিখি, নানা ধরনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হই। জীবন, অভিজ্ঞতা, বয়স আমাকেও অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমিও পাল্টেছি। আশা করব সেই চেঞ্জটা ভালর দিকেই হয়েছে। তবে কতটা বদলেছি, সেটা ভাল না খারাপ, সেটা তো আমার আশপাশের লোকজন বলবেন।
পত্রিকা: এই বদলানো চান্দ্রেয়ীও কি মন যা বলে তাই করেন? যদি মন বলে আবার উধাও হয়ে যাও, তা হলে? চান্দ্রেয়ী: (জোরে হেসে) যাব তা হলে। আমি তো ওই রকমই। রেডটাইমস বিডি ডটকম/জেআই/এনডি
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of redtimesbd.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. |
| |
| |
| |
|
|
|
| |
| Related News |
| No more Related News Found |
|
|
| |
|
|
|
|
| |
| |
|
|
|