তাকে নিয়ে কত প্রেম কাহিনী!তবে প্রেম কাহিনীর সাথে তিনি পাল্লা দিয়ে তার ক্যারিয়ারকে উন্নত যায়গায় নিয়ে গেছেন।নিজেকে বলিউডের একজন শীর্ষ নায়িকা হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তুলেছেন।
পুরোনো প্রেমে ভাঙ্গনের সুর, নতুন প্রেমের গুঞ্জন আর ফিলি ক্যারিয়ার এর টানা সাফল্যের কারণে গেল কিছুদিন ধরেই শোবিজ মিডিয়ার আলোচনায় আছেন ক্যাটরিনা কাইফ। প্রেম ও সাফল্যের গলে ক্যাটরিনার এই নতুন অধ্যায় নিয়েই তিনি এগিয়ে চলছেন।
‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রির বিষয়গুলোই এমন যে এখানে কেউ কারো বন্ধু হতে পারে না। সালমান যখনই কোনো নায়িকার সাথে অভিনয় করে তখন তাকে নিয়ে গসিপ হয়। একই ঘটনা ঘটে আসছে আমার ক্ষেত্রেও।
‘সিং ইজ কিং’ ছবিতে কাজ করার পর আমার আর অক্ষয়ের প্রেম নিয়ে আমাকে বহু কথা শুনতে হয়েছে। আর এবার তা শুরু হয়েছে রণবীরকে নিয়ে। রণবীর খুবই চমৎকার একটি ছেলে। আমি তার সান্নিধ্য উপভোগ করি।
অথচ আমাদের নিয়ে লোকে বাজে কথা বলবে ভেবে দু’জন কোথাও বসে এক কাপ কফি খাবার কথাও ভাবতে পারি না।
তার মানে কি এই যে বলিউডে প্রেমের বাইরে একটা ছেলে আর মেয়ের মধ্যে কোনো বন্ধুত্ব হতে পারে না!’ সম্প্রতি ভারতের প্রভাবশালী সাময়িকী ফিলফেয়ারকে অনেকটা আক্ষেপের সাথেই কথাগুলো বলেছিলেন ক্যাটরিনা। কিন্তু কথায় বলে ‘চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী।’ এ কারণে প্রেম আর প্রেম বিষয়ক গুঞ্জন যে শোবিজ মিডিয়ার কাছে সবসময়ই সুস¡াদু এক খাদ্য সেই মিডিয়া ক্যাটরিনাকে এতো সহজে ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। ভাবখানা এমন যে, ‘ওটা নাহয় মিথ্যা হলো, কিন্তু এটা তাহলে কি?’
আর ক্যাটরিনার প্রেম নিয়ে এই ‘এটা-ওটা’র সাম্প্রতিক সংস্করণ সালমানের সাথে তার ভাঙ্গনের গুঞ্জন। কখনো রণবীর আবার কখনো বা জন আব্রাহামকে তার সাথে জড়িয়ে ভারতীয় মিডিয়া দীর্ঘদিন থেকেই বলবার চেষ্টা করছে যে ক্যাটরিনা এখন অন্য পুরুষের সন্ধানে।
আর তাদের এই প্রচারিত তত্ত্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সালমানের ‘দশ কা দম’ পার্টিতে ক্যাটের অনুপস্থিতি।
ইতোপূর্বে যেখানে শত ব্যস্ততার মাঝেও ক্যাটরিনাই হতেন সল-ু’র সকল পার্টির হোস্ট, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে সালমানের পার্টিতে ক্যাটরিনার অনুপস্থিতি ভাঙ্গনের সপক্ষে থাকা মিডিয়াকেই উসকে দিচ্ছে নতুন করে।
আজ থেকে প্রায় বছর সাতেক আগে স্রেফ ভিনদেশী এক সুন্দরী হিসেবেই বলিউডে পা রেখেছিলেন ক্যাটরিনা। ২০০৩ আর ’০৪ এ পরপর দু’টি ফ্লপ ছবি আর হিন্দী বলতে অপারগ ক্যাটরিনার শুরুর গলে তাই আলোর চাইতে অন্ধকারই ছিল বেশি। এরই মাঝে সালমানের সাথে তার প্রেমের গুঞ্জন আর ২০০৫ এ অভিষেকের বিপরীতে ‘সরকার’ এ অভিনয়। মূলত এ দু’টি ঘটনা অনেকটা লাইফ সাপোর্ট দিয়েই বলিউডে বাঁচিয়ে রেখেছিল ক্যাটরিনাকে।
পরবর্তীতে ২০০৬ এ হিন্দী আর মালয়ালাম ভাষায় আরো দু’টি চলচিত্রে কাজ করেন ক্যাট। তবে সে সময় ক্যাটরিনার এই ক্যারিয়ারের চাইতে সালমানের সাথে তার প্রেমের গল্প ছিল মিডিয়ার কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয়।
বিষয়টা ক্র্রমেই এমন একটা পর্যায়ে এসে দাঁড়াচ্ছিল যে অনেকেই ক্যাটরিনা সম্পর্কে শেষ সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলেছিলেন।
ভেবেছিলেন ‘প্রেম ছাড়া এই মেয়েকে দিয়ে মিডিয়ায় আর কিচ্ছুই হবার নয়।’ তবে ততোদিনে বলিউডের রাজনীতি আর টিকে থাকার কৌশলটাও বেশ শেখা হয়ে গিয়েছিল ক্যাটরিনার। আর শেখা-পড়ার এই পর্বে ক্যাটরিনা যেন ঝড়ের মতোই ভাসিয়ে দিয়েছিলেন ২০০৭ এর বলিউডকে।
‘নমস্তে লন্ডন’ থেকে শুরু করে ‘আপনে’, ‘পার্টনার’ আর ‘ওয়েলকাম’ এর মতো তুমুল ব্যবসা সফল চলচিত্রের সুবাদে হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের শীর্ষ নায়িকার একজন।
আর সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা ক্যাট দেখিয়েছেন পরের বছর মুক্তি পাওয়া ‘রেস’ এবং ‘সিং ইজ কিং’ এর মতো আলোচনার জন্ম দেয়া চলচিত্রেও।
পরপর দু’বছর যে ক্যাটরিনা তার ‘প্যান্ডেরার বাক্স’ থেকে বলিউডি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একাধিক সুপারহিট ছবি সেই ক্যাটকে নিয়ে এই ২০০৯ এও ইন্ডাস্ট্রির বাড়তি আগ্রহ থাকাটাই স¡াভাবিক।
কিন্তু বিধি বাম! চলতি বছরে একাধিক বিগ প্রজেক্টের সামনে দাঁড়িয়েও ক্যাটরিনাকে এখন সামলাতে হচ্ছে একের পর এক প্রেমের গুঞ্জন। মূলত গেল বছরের শেষ দিকেই জন আব্রাহামের সাথে ক্যাটরিনার প্রেম নিয়ে মিডিয়ায় নানা কথা চাউর হতে থাকে।
এ মাসে মুক্তি প্রত্যাশিত ‘নিউ ইয়র্ক’ চলচিত্রে কাজ করতে যেয়ে এদের বোঝাপড়াটা যে সহশিলীর চাইতেও খানিকটা বেশি ছিল একথাও মিডিয়ায় আসতে থাকে । এমনকি গেল মাসে এমনও শোনা যায় যে, সালমানের শত্রু হিসেবে পরিচিত জন এর সাথে ক্যাটরিনার ফোনালাপ আর এসএমএস এর কথা জানতে পেরে নাকি খোদ সালমানও নাকি একহাত নিয়েছিলেন ক্যাটরিনাকে।
অন্যদিকে আগামী মাসে মুক্তি প্রত্যাশিত ক্যাটরিনার অপর চলচিত্র ‘আজব প্রেম কি গাজাব কাহানী’র শুটিং এর সূত্র ধরেই জন্ম নেয় রনবীর-ক্যাটরিনা প্রেম কাহিনী’র।
বলিউডের এই চলতি প্রেম কাহিনীর মূল উপজীব্য রণবীরের প্রতি ক্যাটরিনার মুগতা হলেও এর পেছনে ইন্ধন রয়েছে সালমান-ক্যাটরিনার ভাঙ্গন প্রত্যাশীদের।
তবে রণবীর এবং জনকে স্রেফ সহকর্মী আর মজার মানুষের গন্ডিতে রেখে দেয়া ক্যাটরিনা বরাবরের মতোই উপেক্ষা করে আসছেন মিডিয়ার গুঞ্জনকে।
আর সালমানের সাথে তার সম্পর্কের ভাঙ্গন সম্পর্কে ক্যাটরিনার কৌশলী উত্তর ‘সালমানের সাথে আমার সম্পর্কের কথা এখন নতুন করে বলার কিছু নেই। নানা কারণেই ও আমার ভাল বন্ধু। ও আমার জন্য সবসময়ই ছিল এবং আমি ওকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি।
সালমান যে আমার ‘লুক এলাইক’ খুঁজে তাকে ‘ভিড়’ মুভিতে ক্যাস্ট করেছে এতেও আমি সম্মানিত বোধ করছি।’ কিন্তু ক্যাটরিনা কাইফ নিজেই যখন সশরীরে এই ধরাধামে বিদ্যমান তখন সালমানকে কেনই বা ক্যাটরিনার ‘লুক এলাইক’ খুঁজতে হলো।
ফিলফেয়ারের এমনই এক প্রশ্নের উত্তরে যেন ভাঙ্গনের শব্দটাকে আর চাপা দিতে পারলেন না ক্যাটরিনা। বললেন, ‘সালমানের সাথে সব চলচিত্রে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
কেননা স্ক্রিপ যদি ভাল না হয় তাহলে তা আমাদের দু’জনের কাছেই গুরুত্ব হারাবে। আমরা কেউই খেলার মাঠের শিশুদের মতো নই।
তাই আমি ওর সাথে খেলবো, তুমি খেলবে না এ জাতীয় কথাও এই ইন্ডাস্ট্রিতে বড্ড বেমানান। এখানে প্রত্যেকেরই স¡াধীনতা রয়েছে তার ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবার এবং সেটিই সবসময় হওয়া উচিত।
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of redtimesbd.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.