হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী ময়মনসিংহের আল-আমিন
|
|
আবু কাউছার চৌধুরী রন্টি রেডটাইমস বিডি ডটকমের প্রতিবেদক ময়মনসিংহ,জুলাই ২৯,রেডটাইমস বিডি ডটকম
হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হলেন ময়মনসিংহের আল-আমিন।ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রাম।এই গ্রামের কৃষক আহাম্মদ আলীর ছেলে মোঃ আল-আমিন। এসএসসি পর্যন্ত পড়াশুনা করার পর নানা কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন ২০০৪ ইং সালের কথা।
আত্মপ্রত্যয়ী আল-আমিন ভাবে কি করা যায়। নিজে বাঁচতে হবে এবং পরিবারকেও সহযোগিতা দিতে হবে। অনেক ভেবে-চিন্তে তিনি হাঁসের খামার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন।
২০০৫ ইং সালে পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ীর ফরিদ আহাম্মদের হ্যাচারী থেকে ১৮শ’ টাকায় ১দিনের ১শ’ ৫০টি হাঁসের বাচ্চা কিনে তার নিজ বাড়ীর আঙ্গিনায় ৭ হাত বাই ১২ হাত লম্বা একটি খামার গড়ে তোলেন এবং সেই খামারে ৫ মাস পর্যন্ত হাঁসের বাচ্চাগুলো লালন-পালন করেন।
এর মধ্যে বেশ কিছু বাচ্চা মারা যায় এবং বড় হাঁসাগুলো বিক্রি করে দেয়া হয়। এ বছর প্রত্যাশিত ডিম বিক্রি করে নগদ ২২ হাজার টাকা আয় করেন আল-আমিন।
তখন তার আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। পরের বছর তার খামারটির পরিসর আরো বড় করেন। ৬ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে নির্দিষ্ট সময়ে লালন-পালন করে হাঁসাসহ ডিম বিক্রি করেন ২২ হাজার টাকা।
একইভাবে ২০০৭ইং সালে খরচ বাদে ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়। ২০০৮ইং সালে ৪৫ হাজার টাকা খাবার খরচ বাদে হাঁসাসহ ডিম বিক্রি করেন ৭৫ হাজার টাকা মুনাফা ঘরে তোলেন। ২০০৯-১০ইং সালে একদিনের বাচ্চা ও আনুষঙ্গিক খরচসহ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ডিম বিক্রি করেন। বর্তমানে আল-আমিনের খামারে ১৩শ’র উপরে হাঁস রয়েছে। হাঁসের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারের ঘরটি আরো বড় করা হয়। চলতি বছর মড়ক দেখা না দিলে ভালো ফল পাবেন বলে তিনি আশা করেন।
খামারী মোঃ আল-আমিন জানান, বর্তমানে খাবার মূল্য বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেশী হয়। প্রতিদিন মুক্ত জলাশয়ে হাসগুলিকে খাইয়ে বিকেলে বাড়ীতে ফিরি।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্থানীয় পশু হাসপাতাল থেকে তেমন সহযোগিতা পাই না। হাঁসের খামারে মড়ক দেখা দিলে সময় মতো ভ্যাকসিন যোগাড় করতে পারেন না।
ফলে হাঁস ও বাচ্চা মরে গিয়ে তার অনেক ক্ষতি হয়। পশু হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না পাওয়া গেলেও উপজেলার তাঁতকুড়া বাজারের জনৈক গৌতমের কাছে তা অনায়াসে পাওয়া যায়। তিনি দীর্ঘদিন যাবত খামারীদের কাছে ডাকপ্রেগ নামক ভ্যাকসিন চড়ামূল্যে বিক্রি করে আসছেন। এ ব্যাপারে গৌতমের সাথে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি ভ্যাকসিন বিক্রির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার নিকট থেকে ভ্যাকসিন নিয়ে কেউ প্রতারিত হয়নি।
উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা এ, এম শাহরিয়ার তৌফিকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বার্তা সংস্থা রেডটাইমস বিডি ডটকমকে বলেন, আমাদের পশু হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের অভাব রয়েছে। ফলে খামারীদের কাছে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে অনেকেই প্রতারিত হয়ে থাকেন।
ভ্যাকসিনের গুণাগুণ অক্ষুন্ন আছে কি-না তা পরীক্ষা না করেই যত্রতত্র মেয়াদ উত্তীর্ণ ভেকসিন পুশিং করলে কাজ হয় না।
ফলে আমাদের নামে দুর্নাম ছড়ানো হয়। হাসপাতালে চাহিদার চেয়ে অপ্রতুল ভ্যাকসিন আসে বিধায় সকল খামারীদের তা দেয়া সম্ভব হয় না। আর অনিয়ম রোধের জন্য ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনের লোকদের দেখার দায়িত্ব। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। রেডটাইমস বিডি ডটকম/প্রতিনিধি/ওও/এসডি
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of redtimesbd.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. |
| |
| |
| |
|
|
|
| |
| Related News |
| No more Related News Found |
|
|
| |
|
|
|
|
| |
| |
|
|
|