সিলেটে টমেটো চাষে লাখপতি
|
|
সিলেট, জানুয়ারি ২১, রেডটাইমস বিডি ডটকম বিকাশ চন্দ্র দেবনাথ। টমেটো চাষে লাখপতি বিকাশকে এখন অনেকেই চেনে। শুধু বিকাশই নয় সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় শুধু মাত্র টমেটো চাষ করে অনেকই এখন লাখ টাকা আয় করছেন। সামান্য পূঁজি, শ্রম ও মেধা দিয়ে নিজেদের ভাগ্যকে বদলে নিয়েছেন তারা। বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের ঈশাগ্রাই গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ চন্দ্র দেবনাথ। একটা সময় অভাব ছিল তার পরিবারের নিত্য সঙ্গী। বর্গাচাষ করে জমিতে ধান ফলিয়ে সংসার চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হত।
অনেক ভেবে-চিন্তে ধান চাষের পাশাপাশি ৫ বছর আগে তার বাড়ীর পাশের অন্যের জমিতে প্রায় ১০ হাজার টাকার পূঁজি খাটিয়ে টমেটোর চাষ করেন। মাত্র চার মাস পরিশ্রমের পর তার ১০ হাজার টাকা ৬০ হাজার টাকায় রূপান্তরিত হয় টমেটো বিক্রির লাভ থেকে।
সেই থেকে তার নতুন পথে চলা। প্রতি বছর টমেটোর চাষ অব্যাহত রাখেন তিনি। ফলন ও জায়গা বৃদ্ধির ফলে বাড়তে থাকে তার লাভের পরিমান।
বিকাশ চন্দ্র দেবনাথের সাফল্য দেখে দু’বছর আগে তার সঙ্গী হন গ্রামের আরো দুই যুবক, জুনেদ মিয়া ও জিলাদ মিয়া।
গত বছর তারা তিন জন একত্রে প্রায় পৌনে এক একর জমিতে ৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে টমেটোর চাষ করেন। আশানুরূপ ফলন হওয়ায় তাদের লাভ হয় প্রায় ২ লাখ টাকা।
এরপর বিকাশের এক সঙ্গী জিলাদ মিয়া দুবাই চলে গেলেও কিছুদিন ওখানে থাকার পর তিনি বুঝতে পারেন মধ্যপ্রাচ্যের রোজগারের চেয়ে দেশে টমেটো চাষই অনেক ভালো। তাই তিনি দেশে ফিরে এসে আবারও টমেটো চাষে বিকাশের সঙ্গী হন।
গত বছরের অক্টোবর মাসে তারা ৩ জনে মিলে প্রায় ২ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল টমেটোর চাষ করেন।
দুই একর জমির মধ্যে নিজের এলাকায় এক একর এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে উনিশ মাইল নামক স্থানে (১৫ হাজার টাকা বছর চুক্তিতে) এক একর জমি তারা চাষ করেন। এতে তাদের মোট খরচ হয় ১ লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। আশানুরূপ ফলন হয় জমিতে।
এর মধ্যে এক একর জমির টমেটো তারা বাজারে বিক্রি শুরু করে দিয়েছেন। বাজারে টমেটোর দাম ভাল হওয়ায় এ পর্যন্ত তাদের বিনিয়োগকৃত পূঁজি ইতোমধ্যে উঠিয়ে নিয়েছেন।
তারা আশা করছেন, সবমিলিয়ে এবার ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন।
বিকাশ দেবনাথের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এক সময় অভাবের সাথে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু পরিবার পরিজন নিয়ে এখন অনেক ভাল আছি। টমেটোর চাষ করে আমার পরিবারের অভাব দূর হয়েছে। আমার সাফল্য দেখে এবার গ্রামের ১৫টি পরিবার টমেটো চাষ করতে শুরু করেছে।
তার সঙ্গী জিলাদ মিয়া বলেন, আমি বিদেশে গিয়ে বুঝলাম দেশে মাত্র কয়েক মাস পরিশ্রম করে যে টাকা আয় করা যায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সারা বছর কাজ করেও সে টাকা আয় করা সম্ভব হয়না।
একইভাবে টমেটোর চাষ করে সফতা পেয়েছেন উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামের সবজি ব্যবসায়ী বিলাল মিয়া।
তিনি বিগত কয়েক বছর যাবৎ এক একর জমিতে টমেটোর চাষ করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। তাদের মতো টমেটো চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন, ঈশাগ্রাই গ্রামের সাজু মিয়া, নুর ইসলাম, রানা মিয়া, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ভাগলপুর গ্রামের বশির মিয়া, সমছু মিয়া, উমরপুর ইউনিয়নের সোনাফর আলী ও মোশাহিদ আলী।
এছাড়াও এ বছর টমেটোসহ অন্যান্য সবজির চাষ করেছেন সাদীপুর ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামের জুবায়ের আহমদ, ফয়জুল ইসলাম, ছাদিক মিয়া, বাদশা মিয়া, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের নগরিকাপন গ্রামের কয়েছ চৌধুরী, সুরেশ দেবনাথ, গদিয়ারচর গ্রামের আবরুছ মিয়া, উমরপুর ইউনিয়নের ইসবপুর গ্রামের সুন্দর আলী, বোয়ালজুড় ইউনিয়নের মগলমপুর গ্রামের মনসুর মিয়াসহ আরো অনেকে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৩৪০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে অধিকাংশই টমেটো।
বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী মজিবুর রহমান জানান, শুধু টমেটোর চাষ করে উপজেলার অনেক সবজি চাষি সাবলম্বী হয়েছে।
তাদের মত অন্যান্যরাও সবজি চাষে এগিয়ে আসলে বেকারত্ব ও অভাব দুটোই দূর করা সম্ভব। সবজির ফলন সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বছর ভাল ফলন হয়েছে। রেডটাইমস বিডি ডটকম/প্রতিনিধি/আর এস
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of redtimesbd.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. |
| |
| |
| |
|
|
|
| |
| Related News |
| No more Related News Found |
|
|
| |
|
|
|
|
| |
| |
|
|
|