রেডটাইমস বিডি ডটকমের প্রতিবেদক
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ০৭, রেডটাইমস বিডি ডটকম
ছুটির দিন কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ঢাকা ধর্মঘটের কোন প্রভাবই পড়েনি একুশে গ্রন্থমেলায়। গতকালের মত রোববারও বইমেলায় ক্রেতা-দর্শকের ঢল নামে। দুপুর ৩টায় মেলা শুরু হলেও ক্রেতা-দর্শকের ভিড় বাড়তে থাকে মূলত বিকেলে।
সন্ধ্যায় মেলা ছিল পুরো দমে জমজমাট। তবে শব্দদূষনে জমে উঠা গ্রন্থমেলায় অনেকাংশে প্রভাব পড়ছে ।
রোববার স্টলে স্টলে ক্রেতার ভিড় ছিল উল্লেখ করার মতো। বই বিক্রির অবস্থাও ছিল ভালো।
আজও কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও টিভি পর্দার চিত্রতারকারা মেলায় এসেছেন। ঘুরেছেন পুরো মেলা চত্ত্বর। কিনেছেন বই। অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকদের পদচারণা ছিল চোখের পড়ার মত।
এদিকে মেলার পরিবেশ নিয়ে ক্রেতা-দর্শকের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। স্টলবিন্যাস দৃষ্টিনন্দন হয়নি বলে অনেক ক্রেতা জানান।
বিশেষ করে আণবিক শক্তি কমিশনের দেয়াল ঘেঁষে যেভাবে স্টল বসানো হয়েছে তা হাঁটাচলা ও কেনাকাটার জন্য মোটেই প্রশস্ত নয়। ভবিষ্যতে ছুটির দিনগুলোতে মেলার এ অংশে পরিবেশ বিগ্নিত হতে পারে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।
মেলায় তথ্যকেন্দ, কবি সাহিত্যিকদের জন্য বসার জায়গাসহ অন্যান্য আয়োজনের প্রশংসা করেছেন অনেকে।
বিকেলে স্টেজে আলোচনা অনুষ্ঠান, তারপর গান চলছে। এদিকে তথ্যকেন্দ্র থেকে মাইকে একের পর এক তথ্য দিয়েই যাচ্ছে। স্টেপ মিডিয়া জাগরণের গান নিয়ে ব্যস্ত, চলছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দের গান। ওদিকে বংশী বাদক থেমে নেই তার বাশি বাঁজানো থেকে।
বাংলা একাডেমীর প্রশাসনিক ভবনে টানা বিরতিহীন চলছে ডিসপ্লে শো। আর স্টলে স্টলে দাম দরের হিসেব-নিকেশ তো আছে। এক কথায় শব্দে শব্দে একাকার পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।
অনেক ক্রেতা-দর্শক অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে মেলার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘শব্দদূষন’। এ দূষন মোকবেলায় কর্তৃপরে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া।
এদিকে মেলায় ক্রেতা-দর্শক প্রচুর থাকলেও বিকিকিনি কেমন তা জানতে কথা হয় কয়েকটি স্টলের প্রকাশকদের সাথে।
সন্ধ্যয় অন্য প্রকাশের চিত্র ছিল ক্রেতা আর বিক্রেতার কথপোকথন। কেউ বলছে হুমায়ূন আহমদের কি বই এসেছে ? সাইন্স ফিকেশেন কি আছে, নতুন কি আসবে ইত্যাদি।
অন্য প্রকাশের এক বিক্রেতা জানান, ক্রেতার প্রশ্ন আর বিক্রি করতে করতে খাওয়া দাওয়া ভূলে গেছি। ব্যবসা ভালো হচ্ছে। তবে আরও ভালো ব্যবসা হতো যদি নতুন বইগুলো প্রথম সপ্তাহেই চলে আসতো।
এ ব্যাপারে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের সত্ত্বাধীকারী জহিরুল আবেদিন জুয়েল জানান, বিকিকিনি ভালো। তবে যে হারে ক্রেতা-দর্শক আসছে সবাই কিনলে ভালো ব্যবসা জমতো।
কেমন বইয়ের চাহিদা রয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, উপন্যাস, গল্প ও গবেষনামূলক বই ভালো চলছে। তার সাথে কবিতার বইও আছে।
বাংলাদেশ তাজ কোম্পানী মেলায় এনেছে ইসলামি বইসমগ্র। তাদের স্টলের শতভাগ বই ইসলামিক। স্টলের ম্যানেজার বলেন, বেচাকেনা ভালই হচ্ছে। তবে গতবারের মত নয়।
বিকেলে বাংলা একাডেমী টাস্কফোর্স টিম পাইরেসী বই রাখার অপরাধে ৫টি স্টল বন্ধ করে দেয়।
এ ব্যাপারে সদস্য সচীব শাহিদা খাতুন জানান, আজ রবিবার পর্যন্ত ঐ ৫টি স্টলকে সতর্ক করে প্রাথমিক চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা বইও সরায় নি। তাই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কোন স্টল এভাবে অনুমোদনহীন অনুবাদকৃত কিংবা পাইরেসী বই রাখে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘ভাষা-শহীদ রফিক উদ্দিন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জনাব এম. আব্বাস উদ্দিন আহমদ।
আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী তোবারক হোসেন ও বাংলা একাডেমীর পরিচালক শাহিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আফসার আহমদ।
বাংলা একাডেমীর পরিচালক শাহিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশে ৪৫টি আদিবাসী সম্প্রদায় প্রায় ৩০টি মাতৃভাষায় কথা বলে। যার অনেকগুলো আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব ক্ষদ্রজাতিসত্তার মাতৃভাষা যাতে হারিয়ে না যায় সেদিকে একুশে ফেব্রুয়ারি আজ চোখ ফিরিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হয়ে।
আমাদের দেশের আদিবাসীদের মাতৃভাষা সংরণ ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা জরুরি।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী শাহীন সামাদ, নাশিদ কামাল, নীলোৎপল সাধ্য, আজগর আলীম, মোঃ নূরুল ইসলাম, তালুকদার জান্নান হোসেন, নারায়ণ চন্দ্র শীল প্রমুখ।
আবৃত্তি পরিবেশন করে প্রকাশ সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন। যন্ত্রাণুসঙ্গে ছিলেন শিল্পী বেণু চক্রবর্তী, আলমাস আলী, মোঃ মনিরুজ্জামান, রতন কুমার রায় ও সুনীল সরকার।
রেডটাইমস বিডি ডটকম/ওও/আর এস