E-mail this to a friend Printable version
 

দুদু মিয়ার কবুতর ফার্ম

fdsfঝিনাইদহ, মার্চ ৩১, রেডটাইমস বিডি ডটকম
গ্রামের আর দশ জনের মতো শখ করে কবুতর পালন করতেন ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলার পারমথুরাপুর গ্রামের দরিদ্র যুবক বাদশা আহম্মেদ দুদু মিয়া। তবে দুদু মিয়ার শখের কবুতর একদিন যে তার উপার্জনের পথ দেখাবে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেন নি। এখন কবুতর বিক্রি করে দুদু মিয়া প্রতি মাসে আয় করেন ২০ হাজার টাকা।

সংসারেও ফিরেছে সচ্ছলতা। দেশী বিদেশী ২৮ জাতের কবুতর দিয়ে সাজানো তার ফার্মটি । দুদু মিয়ার কবুতর মাটিতে ও আকাশে ডিগবাজী দিয়ে মানুষকে আনন্দ দেয়।

১৯৯০ সাল থেকে কবুতর পালন শুরু করেন ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলার পারমথুরাপুর গ্রামের ইলাম মন্ডলের ছেলে বাদশা আহম্মেদ দুদু মিয়া। গ্রামের আর দশ জনের মতো কবুতর পালন করলেও তার শখ ছিল নানা জাতের কবুতর পালনের। তাইতো যুবক দুদু মিয়া ঝিনাইদহ ছাড়াও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে দেশী বিদেশী কবুতর সংগ্রহ করে পালন করতে থাকেন।

বিভিন্ন জাত ও রং-বেরংয়ের কবুতর দিয়ে সমৃদ্ধ করে তোলেন তার ফার্মটি। তার ফার্মে অতিমুল্যবান স্ট্রেচার, রেঞ্জ, মেডোনা, সার্টিং, সর্টপিস, চন্দন, আওয়াল, হোয়াইট কিং, সিরাজী, ময়ুরী, পারভিন, গ্রিবাজ, লোটন, হাই পিলার, সিংহ, কোটার বল, এবং কিং জাতের সাদা, কালো, হলুদ, ব্লু ও লাল রঙের কবুতর রয়েছে। বিচিত্র জাতের কবুতরের মধ্যে কোটার বল দেখতে ফুটবলের মতো, আর সিংহ জাতের কবুতর দেখতে সিংহের মতো। কবুতর গুলো আকৃতিতে মোটা ও তরতাজা।

অজ পাড়া গাঁয়ে বিচিত্র জাতের কবুতর পালনের এ খবর প্রচার হয়ে পড়লে সৌখিন কবুতর পালক ও দর্শনাথীরা দুদু মিয়ার বাড়িতে ভীড় জমাতে থাকেন। কবুতর দেখে পছন্দ হয়ে গেলে সৌখিন কবুতর পালকরা তা দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যান। স্ট্রেচার, রেঞ্জ ও মেডোনা জাতের কবুতরের মুল্য বেশি বলে দুদু মিয়া জানান।

স্ট্রেচার জাতের একজোড়া কবুতর তিনি বিক্রি করেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। ফার্মের লোটন ও গ্রীবাজ জাতের কবুতর মাটিতে ও আকাশে ডিগবাজী দিয়ে মানুষকে আনন্দ দেয়। কবুতর পালন করেই এখন দুদুর সংসার চলে। প্রতি মাসে খরচ বাদ দিয়ে তার নিট আয় হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। স্ত্রী এবং দুই সন্তান নিয়ে দুদু মিয়ার সুখের সংসার চলছে কবুতর পালন করে। কবুতর পালনের পাশাপাশি তিনি ছাগল, গরু ও হাস-মুরগী পালন করেন।

তবে কবুতরই তার ভাগ্য ফেরাতে সহায়তা করেছে। দুদু মিয়ারি স্ত্রী নাসরিন বেবী জানান প্রথম প্রথম স্বামীর কবুতর পালনের শখে তার রাগ হতো। দামি দামি কবুতর মারা যেতো। এখন বেশ আনন্দ লাগে।

ছেলে রাসেল হৃদয় ও দুই মেয়ে স্মৃতি এবং তৃষ্ণাকে নিয়ে তাদের সংসার ভালই চলছে। স্বামী দুদু মিয়ার মতো অন্য কেও কবুতর পালন করে আনায়াসে সংসারে সচ্ছলা ফিরয়ে আনতে পারে বলে তার স্ত্রী জানান।
রেডটাইমস বিডি ডটকম/প্রতিনিধি/আর এস




WARNING: Any unauthorised use or reproduction of redtimesbd.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.

 
 
 
Bookmark with:  
    GoogleFacebook  GoogleGoogle    
 
More News
 
Related News
No more Related News Found
 
 
 
 
কৃষি ও কৃষকের গল্প
বিনোদন উপাখ্যান
 
 
The REDTIMESBD is not responsible for the content of external internet sites.
 
News Sources Contact Us
About redtimesbd.com Terms of Use  
Advertise With Us Privacy & Cookies  
Sitemap Developed By Mamunur Hossen