আখাউড়ায় পোল্ট্রিফার্ম করে ৩ বন্ধু স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প
|
|
আখাউড়া, ৪ এপ্রিল, রেডটাইমস বিডি ডটকম: আখাউড়া পৌর শহরের মালদার পাড়ায় ৩ বন্ধু পোল্ট্রি ফার্ম করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। ভাড়া করা ৩০ শতক জমিতে দু’টি মুরগীর ফার্ম গড়ে তুলেছেন নজরুল ইসলাম, ওমর ফারুক ও সালাউদ্দিন নামের ৩ বন্ধু।
নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার মাধ্যমে গড়ে উঠা এ ফার্ম দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ায় তারা এখন কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। নজরুল ইসলাম অনার্স , সালাউদ্দিন ডিগ্রী পাস ও ওমর ফারুক এসএসসি পাশ করে ভাবতে থাকেন অন্যের অধিনে চাকুরী না করে কিভাবে নিজেদের প্রচেষ্টায় পরিশ্রম করে স্বাবলম্বী হওয়া যায় ।
দারিদ্রতার কারনে তারা কখনোই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েননি। একটা কিছু করতে চাই মনোবল ছিল সবচাইতে বেশি। তাছাড়া সামাজিকভাবে যেন অবহেলিত না হয় সেদিকে ছিল যথেষ্ট নজর। এ অবস্থায় ৫ বন্ধু সিদ্ধান্ত নেয় স্বল্প পুঁজির মাধ্যমে একটা কিছু করবে। পাঁচ বন্ধু মাসে ৩’শ টাকা করে গড়ে তুলেন সমিতি। ১ বছরের মাথায় দুই বন্ধু চলে গেলে ওই তিন বন্ধু ২৫ হাজার টাকা দিয়ে প্রথমে ছোট একটি পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলেন।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে ৬৩৮ টি মুরগীর বাচ্চা কিনে লালন পালন শুরু করে। ৬ মাসের ব্যবধানে অন্যান্য খরচবাদে আয় হয় তাদের ৫০ হাজার টাকা।
আয়ের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ না করে মুরগীর সংখ্যা বাড়াতে থাকল। পাশাপাশি দু’টি বিশাল আকৃতির খামার ঘর তৈরী করেন। তিন বন্ধু মিলে খামারের নাম দেন আলপনা পোল্ট্রি ফার্ম। বর্তমানে নাম করন করা হয়েছে এক ঝাক পায়রা বহুমুখি পোল্ট্রি ফার্ম।
পোল্ট্রি ফার্ম লাভজনক হওয়ায় তাদের মাঝে ফিরে আসে আত্মবিশ্বাস। শুরু হয় স্বাবলম্বী হওয়ার শুভ যাত্রা। অল্প কয়েক দিনেই তাদের সুনাম উপজেলার বিভিন্ন আনাচে কানাছে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে তাদের এই ফার্মে ২৪’শত মুরগী রয়েছে।
প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ডিম উপহার দেয় যা থেকে অন্যান্য খরচ বাদে মাসে প্রায় লাধিক টাকা আয় হয় বলে জানায় সালাউদ্দিন।
এরই মধ্যে তারা স্বপ্নসিঁড়ি ব্রয়লার হাউজ, আলপনা পিসি কালচার, এক ঝাক পায়রা বহুমুখী পরিবহন সহ বেশ কয়েকটি ফার্ম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তাদের পুঁজি দাড়িয়েছে ২২ লাখ টাকার মত।
তাদের এই মুরগীর ফার্মে বর্তমানে ৩ জন কর্মচারী রয়েছেন। তারা মালিকদের পাশাপাশি সার্বনিক দেখাশুনা করে থাকেন। নজরুল ইসলাম জানান, লেখাপড়া শিখে চাকুরীর আশা করা ঠিক নয়। নিজের চেষ্টা ও স্বাধীনভাবে কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়া যায় প্রত্যেক শিতি যুবক এদিকে নজর দেওয়া দরকার।
তিনি বলেন, প্রতিদিন এ খামার থেকে ১০ হাজার টাকার চেয়ে বেশি ডিম বিক্রয় করা হয়ে থাকে। আমাদের আয়ের সাথে চাকুরীর আয় কখনো সমান হবে না। কোন মহামারি আক্রান্ত না হলে যাবতীয় খরচ বাদে এ বছর ২০/২৫ লাখ টাকা আয় সম্ভব হবে।
সালাউদ্দিন বলেন, প্রতিটি ডিম খামার থেকে বিক্রি হয় ৬টা করে। ১টি মুরগী বছরে ১৮’শ টাকার ডিম উপহার দেয়।
তারা বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের শ্রেষ্ঠ ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সফলতা তারা অর্জন করতে পারবেন। তাদের প্রতিষ্ঠানে আরো বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। রেডটাইমস বিডি ডটকম/ প্রতিনিধি/ ই এইচ/ আই এইচ
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of redtimesbd.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. |
| |
| |
| |
|
|
|
| |
| Related News |
| No more Related News Found |
|
|
| |
|
|
|
|
| |
| |
|
|
|