রাধারমণের গানের ভুবনে
|
|
মোহাম্মদ আলী খান রাধারমণের গান যেন অযুত বছর ফুটে থাকা নীলপদ্ম। যদি কেউ শুনতে চান সমুদ্রের কল্লোল,অবগাহন করতে চান শরৎ রজনীর ঝিলিক ফোটানো জোৎøাধারায়, কেউ যদি অনুভব করতে চান হৃদয়ের গহীনতম প্রদেশে মহান সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমা, তা হলে তাকে রাধারমণের গানের ভুবনে আসতে হবে। প্রায় ৩০০০ গান রচনা করেছেন যিনি এবং প্রতিটি গানের গভীরতা সাগরসম, সেখানে তাঁকে স্মরণ করার মাঝে এক ধরণের গৌরবগাঁথা অনুভব করে তাঁর যে কোন ভক্ত। মরমী কবি রাধারমণ যেন সুনামগঞ্জের রবীন্দ্রনাথ।
ফোকলোরের এক মূল্যবান সম্পদের ভান্ডার সুনামগঞ্জ, এখানে প্রায় দুই শতাধিক মরমী কবির বর্ণিল উপস্থিতি এই মাটি ও প্রকৃতির উর্বরতার কথা সহজেই মনে করিয়ে দিবে। কবি রাধারমণ শুধু সেই উর্বরতার মধ্যমনি নয়, জগত আসরে তিনি বেঁচে আছেন তাঁর অসাধারণ সৃষ্টিশীলতার মাঝে। প্রতিটি গানের সুর ও কথা এমনই যে যা যুগ হতে যুগান্তরে, কাল হতে কালান্তরে টিকে আছে আপন স্বভাবে। কবির ‘ধামাইল গান’ অন্তঃনিসৃত ফল্গুধারার মত এই ভাটির জনপদের মেয়েদের নিকট আজো অত্যন্ত আদৃত।
মোহাম্মদ সুবাসউদ্দিনের ‘বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্ত ও তাঁর ধামাইল গান’ (২০০২) গ্রন্থটিতে ধামাইল গানের চমৎকার উদাহরণ ও বিশ্লেষণে অনন্য হয়ে উঠেছে। প্রকৃতপে এই মহান কবি নিয়ে আলোচনা ও উপস্থাপনা খুবই সীমিত, তিনি দিয়েছেন অনেক, চাননি কিছুই, তথাপি আমাদের দায়িত্ব তাঁকে প্রাপ্য উচ্চতায় আসীন করা।
শ্রীরাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থ কবির পুরো নাম। জন্মগ্রহণ করেন ঐতিহ্যমন্ডিত সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলাধীন কেশবপুর গ্রামে ১২৪০ বঙ্গাব্দে বা ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে। তাঁর পিতার নাম শ্রীরাধামাধব দত্ত পুরকায়স্থ ও মাতার নাম শ্রীমতি সুবর্ণা দেবী। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। নিজের জন্মস্থান কেশবপুরে এই মহান কবি পরলোকগমন করেন প্রায় ৮২ বছর বয়সে ২৬ কার্তিক ১৩২২ বঙ্গাব্দে (১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে)। মৃত্যুর পর কেশবপুরেই তাঁর মরদেহ দাহ করা হয়, সেখানে ‘রাধারমণের সমাধি মন্দির’ রয়েছে।
কবি রাধারমণ দত্ত ৩৫ বছর বয়সে বিবাহ করেন। সময়টা ১২৭৫ বঙ্গাব্দ। তাঁর স্ত্রীর নাম শ্রীমতি গুণময় দেবী। তিনি মৌলভীবাজার জেলাধীন সদর উপজেলার আদিপাশা গ্রামের শ্রী নন্দকুমার সেনের মেয়ে। কবির সংসারজীবন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় নি। শুধু জানা যায়, রাধারমণ-গুণময় দেবীর ৪ ছেলে ছিল।
তাঁদের নাম- রাজবিহারী দত্ত, নদীয়াবিহারী দত্ত, রসিকবিহারী দত্ত ও বিপিনবিহারী দত্ত। কিন্তু দুঃখের বিষয় একমাত্র পুত্র বিপিনবিহারী দত্ত ছাড়া বাকি ৩ পুত্র এবং স্ত্রী গুণময় দেবী অকালে মারা যান। স্ত্রী ও পুত্রদের পরলোক গমনে কবি রাধারমণ দত্ত সংসারজীবন সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়েন। ১২৯০ বঙ্গাব্দে ৫০ বছর বয়সে কবি চলে যান মৌলভীবাজার জেলাধীন ঢেউপাশা গ্রামে সাধক রঘুনাথ ভট্টাচার্যের কাছে। তিনি তাঁর কাছে শিষ্যত্ব লাভ করেন। শুরু হয় কবির বৈরাগ্য জীবন। আরম্ভ করেন সাধনা। গৃহত্যাগ করে জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের পাশে একটি আশ্রম তৈরি করেন। এখানে চলে তাঁর সাধন-ভজন। কবি নিজেই গেয়েছেন ঃ “শ্যামের বাঁশিরে ঘরের বাহির করলে আমারে যে যন্ত্রণা বনে যাওয়া গৃহে থাকা না লয় মনে ॥”
সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে ৪৪ কিলোমিটার সড়কপথে জগন্নাথপুর উপজেলায় যাওয়া যায়। এছাড়া সিলেট শহর থেকে বিশ্বনাথ উপজেলা হয়ে জগন্নাথপুর যাওয়ার সড়কও রয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলার ‘কেশবপুর’ কবি রাধারমণের জন্মভূমি। এটি বর্তমানে জগন্নাথপুর পৌরসভার অধীন।
জগন্নাথপুর শহর থেকে কেশবপুর-রসুলগঞ্জ সড়কের কেশবপুর বাজার হতে প্রায় ১ কিলোমিটার গ্রামের ভিতর গেলে দেখা যাবে কবির সমাধি মন্দির। জগন্নাথপুর শহর থেকে সড়কপথে পায়ে হেঁটে বা যে কোন যানবাহনে কবির সমাধিস্থলে যাওয়া যায়। ‘মরমী কবি রাধারমণের সমাধি’ নামে একটি নামফলক কেশবপুর বাজারের মোড়ে দিক-নির্দেশ করে দেয়া আছে।
জগন্নাথপুর শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে নলজুর নদী। এখন সরু হয়ে গেলেও কবির জীবিতকালে এই নদীতে খুব স্রোত ছিল। এছাড়া একদা বিবিয়ানা, কুশিয়ারা নদী এই এলাকায় বেগবান ছিল যা এখন নেই। নদী ছাড়াও রয়েছে বিখ্যাত মাটিয়ান হাওর, সমসা চুনখোলা হাওরসহ বেশ কয়েকটি হাওর। এই নদী, এই হাওর আর জলজ আবহাওয়ায় কবি রাধারমণের শৈশব, কৈশোর ভালভাবেই কেটেছে। এই সুন্দর প্রকৃতি যেন কবিকে আরো ভাবপ্রবণ করে তুলেছিল।
পারিবারিক পরিবেশে কবি রাধারমণের ছোটবেলা কেটেছে আনন্দে। তাঁর বাবা গুণী ব্যক্তি ছিলেন। স্থানীয় পাঠশালা ও পরিবারের ভেতর পড়ালেখার চর্চা রাধারমণের শৈশব ও কৈশোরে জ্ঞান অর্জনে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তখনকার কোন শিা-প্রতিষ্ঠান বা স্কুলে তিনি পড়ালেখা করেছেন, তা স্পষ্ট জানা যায় না। তবে যে একটি শিতি পরিবার থেকে রাধারমণ বেড়ে উঠেছেন এতে কোনো সন্দেই নেই। জন্মভূমির প্রকৃতি তাঁকে খুব বেশি প্রভাবিত করেছে। তাঁর কেশবপুর গ্রাম ছিল খুব সুন্দর।
আজ যেমন সেখানে শহরের ছোঁয়া লেগেছে, তখন ছিল অপূর্ব গ্রামীণ পরিবেশ। ধানতে, সবুজ গাছপালা, পাখির ডাক, দখিনা হাওয়া রাধারমণের শিশুমনে দাগ কেটেছে গভীরভাবে। বিশেষ করে গ্রামের কাছেই নামকরা নলজুরি নদী ছিল তাঁর ভালো লাগার সেরা উৎস। এছাড়া ছিল আরো নদী। নদীর বয়ে চলা, পালতোলা নৌকার উজান ভাটিতে চলা, অবিরাম বৃষ্টি, বিশাল নীল আকাশ, পূর্ণিমার জ্যোৎøা এসবই তাঁর ছোটবেলার মধুর স্মৃতি।
জগন্নাথপুরসহ পুরো সুনামগঞ্জেই রয়েছে অনেক হাওর। সেসব হাওরের ঢেউয়ের ওঠানামা আর সাহসী মাঝির নৌকা বেয়ে চলার দৃশ্য বালক রাধারমণকে করেছে অভিভূত। গ্রামের সহজ সরল জীবন, শান্ত কোলাহলমুক্ত সমাজ আর পূজা-পার্বণে নানাবিধ অনুষ্ঠান তাঁকে খুব বেশি আলোড়িত করেছে। বাউল বা মরমী গান তো তাঁর জন্মভূমির বিরাট সম্পদ। এর প্রভাব পড়েছে তাঁর জীবনে। আর বাবার লেখা গানের মাধুর্য তো কাছে থেকে অনুভব করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
কবি রাধারমণের বাবা রাধামাধব দত্ত পুরকায়স্থ একজন কবি ও অনুবাদক ছিলেন। ‘কৃষ্ণলীলার কাব্য’, ‘পদ্মপুরাণ’, ‘সূর্য্যব্রত পাঁচালী’, ‘গোবিন্দ ভোগের গান’ প্রভৃতি বই তাঁর লেখা। এছাড়া সংস্কৃত ভাষায় তিনি আরো কয়েকটি বই লিখেছেন।
তাঁর ভিতর রয়েছে জয়দেবের গীতগোবিন্দের স্বছন্দ টীকা, ভারত সাবিত্রী ও ভ্রমরগীতি। রাধারমণের শৈশবে তাঁর পিতা পরলোক গমন করলেও বাবার কাছ থেকে কবিতাপ্রতিভা ঠিকই পেয়েছিলেন। তাইতো দেখা যায়, কবি পিতার কবি পুত্র সকলকে জয় করেছেন হাজারো গান সৃষ্টির মাঝে।
কবি রাধারমণ দত্ত অনেক গান রচনা করেছেন তিনি কাগজে কলমে গান লিখে যান নি। সাধানায় মগ্ন থেকে সংগীতের চর্চা করেছেন। তিনি ভাবে বিভোর হয়ে মুখে মুখে অপূর্ব কথা, সুর ও ছন্দে গান গাইতেন এবং তাঁর ভক্তবৃন্দ তা শুনে মনে রাখতেন বা লিখে রাখতেন। এ ভাবেই কবির গান কন্ঠে কন্ঠে ছড়িয়ে পড়ে।
আজকাল যেভাবে গান লেখা হয়, সুর দেয়া হয় এবং শিল্পীর কন্ঠে তা প্রচারিত হয়, কবি রাধারমণের বেলায় তা হয়ে ওঠেনি। আসলে তাঁর গান এত মধুর যে, মুখে মুখে রচিত সে সব গান প্রায় শত বছর পেরিয়ে এখনো মানুষের মনে দোলা দিয়ে যায়। কত গান তিনি রচনা করেছেন সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, তিনি প্রায় ৩০০০ গান রচনা করেছেন। কবির মৃত্যুর অনেক পরে তাঁর গান সংগ্রহ ও বই আকারের প্রকাশের চেষ্টা করা হয়।
এ যাবৎ এক হাজারের কিছু বেশি গান সংগ্রহ করা গেছে, যা বিভিন্ন বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি গানগুলো যাঁরা রাধারমণের গান ভালোবাসেন, তাঁদের কন্ঠেই শুধু রয়ে গেছে। বাংলা ভাষায় যাঁরা অনেক গান রচনা করে অমর হয়ে রয়েছেন, তাঁরা হলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাছাড়া বাউল কবি লালন শাহ অনেক গান লিখেছেন। তাঁদের পাশাপাশি কবি রাধারমণের নাম আমরা শ্রদ্ধাভবে স্মরণ করতে পারি। তিনি প্রায় তিন হাজার চমৎকার গান রচনা করে আমাদের সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন।
কবি রাধারমণ ছিলেন একজন সাধক কবি। প্রায় ৩২ বছর তিনি সাধনা করেছেন। গানগুলো এই সময়েই রচিত। তিনি বৈষ্ণব কবি নামে সমধিক পরিচিত। তবে সাধারণ মানুষের সুখ, দুঃখ, উৎসব, ফুল, লতা, নদী, হাওর, জলাভূমি, বিয়ের প্রসংগ তাঁর গানে চিত্রিত হয়েছে। দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ লিখেছেন, ‘‘যিনি সিলেটের আকাশ বাতাস বাউল গানের দ্বারা আকুলিত ও ব্যাকুলিত করেছিলেন তিনি হচ্ছেন দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রী রাধারমণ।’’
রাধারমণের শত শত গানে রয়েছে ভনিতাযুক্ত চরণ ‘‘ভাইবে রাধারমণ বলে।’’ ‘ভাইবে’ মানে ভাবিয়া বা ভেবে। রাধারমণ ভক্তিমূলক অনেক গান লিখেছেন। এ ছাড়া গুরুতত্ত্ব, ভজন, প্রার্থনা বিষয়কসহ অনেক গান রচনা করেছেন। তিনি শুধু বৈষ্ণব কবি নন, লোককবিও ছিলেন। তাই তাঁর রচনায় পাওয়া যায় গ্রাম-বাংলার মাটি ও মানুষের সাধারণ জীবন-গাথা, প্রেম, বিরহ, অনুরাগ প্রভৃতি। তাঁর গানের ভাষাও খুব সহজ ও সকলের কাছে বোধগম্য।
রাধারমণের বিরহের গানগুলো খুবই জনপ্রিয়। গানের ভাব, ভাষা, সুর অত্যন্ত মধুর যা যুগ যুগ ধরে টিকে আছে মানুষের অন্তরে। যেমন ঃ “কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া। অন্তরে তুষের অনল জ্বলে গইয়া গইয়া ॥ ঘর বাঁধলাম প্রাণবন্ধের সনে কত কথা ছিল মনে গো। ভাঙ্গিল আদরের জোড়া কোন জন বাদী হইয়া ॥ কার ফলন্ত গাছ উখারিলাম কারে পুত্রশোকে গালি দিলাম গো। না জানি কোন অভিশাপে এমন গেল হইয়া ॥ কথা ছিল সঙ্গে নিব সংগে আমায় নাহি নিল গো। রাধারমণ ভাবে রইল জিতে মরা হইয়া ॥”
রাধারমণের অসংখ্য গানের মধ্যে বেশ কিছু খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ঃ “ভোমর কইও গিয়া শ্রীকৃষ্ণ বিচ্ছেদের রাধার অঙ্গ যায় জ্বলিয়া। ও ভোমর রে, কইও কইও আরে ভোমর কৃষ্ণরে বুঝাইয়া ॥ ওরে ভোমর রে, না খায় অন্ন না খায় জল নাহি বান্দে কেশ ঘর থাকি বাইর হইলা যেমন পাগলিনীর বেশ ॥ ও ভোমর রে, উজান বাঁকে থাকো রে ভোমর ভাইটাল গাঙে থানা চোখের দেখা মুখে হাসি কে কইরাচে মানা ॥ ও ভোমর রে, ভাইবে রাধারমণ বলে মনেতে ভাবিয়া নিভিয়া ছিল মনের অনল কে দিল জ্বালাইয়া ॥”
রাধারমণের আর একটি জনপ্রিয় গান ঃ “প্রাণ সখিরে ঐ শোন কদম্বতলে বাঁশি বাজায় কে। বাঁশি বাজায় কে রে সখি, বাঁশি বাজায় কে ॥ এগো নাম ধরিয়া বাজায় বাঁশি তারে আনিয়া দে। অষ্ট আঙ্গুল বাঁশের বাঁশি মধ্যে মধ্যে ছেদা নাম ধরিয়া বাজায় বাঁশি কলঙ্কিনী রাধা ॥ কোন বা ঝাড়ের বাঁশের বাঁশি ঝাড়ের লাগাল পাই। জড়ে পেড়ে উগরাইয়া সায়রে ভাসাই ॥ ভাইবে রাধারমণ বলে শুন গো ধনি রাই। জলে গেলে হবে দেখা ঠাকুর কানাই ॥”
তবে এই গানটি জনপ্রিয় হলেও ভিন্ন ভিন্ন সংকলকের কাছে ভিন্ন ভিন্ন রূপ পেয়েছে, যা গানের পাঠান্তর নামে পরিচিত।
পল্লী বাংলার পথে-প্রান্তরে মনের আবেগে অনেককেই তাঁর গান আওড়াতে শোনা যায়। নদীতে মাঝি নৌকা বেয়ে চলার সময় রাধারমণের প্রেম-বিরহের গানের সুরে বিভোর হয়ে ওঠে। ভাটি বাংলায় বর্ষার সময় চারদিকে যখন থৈ থৈ পানি, জ্যোৎøামাখা জলসমতল, তখন রাধারমণের গান যেন সৃষ্টি করে অন্য এক পরিবেশ, যার জন্য মনপ্রাণ ব্যাকুল হয়ে ওঠে।
যে কোনো বাউল গানের আসরে বা বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে বা ভাটি এলাকায় গানের জলসায় রাধারমণের গান মনে করিয়ে দেয় তাঁর সৃষ্টিকে। বাংলাদেশের বাইরে ভারতের ত্রিপুরা, করিমগঞ্জ, কাছাড়, আসামেও রাধারমণের গান জনিপ্রয়। তবে যেহেতু কাগজে কলমে রাধারমণ গান লিখে যান নি, তাই তাঁর কিছু কিছু গান বিভিন্নভাবে সংগৃহীত হয়েছে।
সেজন্য সুরের মাঝেও নানা রকমের সুরের উপস্থিতি ল করা যায়। রাধারমণের জন্মভূমি সুনামগঞ্জের শিল্পীরা যে সুরে গান গেয়ে থাকেন বা যে ভাবে উচ্চারণ করেন তা অন্যত্র ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় না।
তাই একদিকে যেমন এই মহান কবির সকল গান সংগ্রহ করা জরুরী, তেমনি সুরের ভিন্নতা বা পাঠান্তর থেকে তাঁর প্রায় তিন সহস্র গানকে রা করা একান্ত অপরিহার্য। কবি রাধারমণ দত্ত কালের ব বিদীর্ণ করে বেঁচে আছেন এবং বেঁচে থাকবেন তাঁর গানের বিষয় বৈচিত্রে ও গভীরতায়, সুর ও ছন্দের মাধুর্যের মাঝে।
রেডটাইমস বিডি ডটকম/এইচ এস/এস এস/আর এস
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of redtimesbd.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. |
| |
| |
| |
|
|
|
| |
| Related News |
| No more Related News Found |
|
|
| |
|
|
|
|
| |
| |
|
|
|