আর্ন্তজাতিক ,২৫জানুয়ারি,রেডটাইমস বিডি ডটকমঃ
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই গতকাল সোমবার ৯০ জন যাত্রী নিয়ে ইথিওপিয়ার একটি বিমান
বিধ্বস্ত হয়ে ভূমধ্যসাগরে নিমজ্জিত হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪ জনের লাশ খুঁজে পেয়েছে অনুসন্ধানকারী দল । যাত্রীদের সবাই নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা ১০ মিনিটে বিমান উড্ডয়নের ৫ মিনিট পরেই বিমানটি ঝড়ো হাওয়া ও প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে পড়ে। বিমানটি ইথিপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবার উদ্দেশে ছেড়েছিল।
বিমান বিধ্বস্তের খবরে বিমান বন্দরে যাত্রীদের আত্মীয়রা তাদের স্বজনের খোঁজে ভিড় করে। আরিদি সাংবাদিকদের বলেন, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে উপকূলীয় গ্রাম না'মেহ থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার (২ মাইল) পশ্চিমে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ওদিকে, ফ্রান্সের দূতাবাস জানিয়েছে, বিমানটিতে লেবাননে ফরাসী রাষ্ট্রদূত ডেনিস পেইটনের স্ত্রী মারলা পেইটনও ছিলেন।
লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত না'মেহ গ্রামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান যে,তিনি গ্রামটির ওপর একটি 'আগুনের গোলা' পড়তে দেখেন।পরে দূর্ঘটনার খবর পেয়ে লেবাননের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং লেবাননের কিছু যাত্রীর আত্মীস্বজনরা বৈরুতের রফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জড়ো হয়।
লেবাননের পরিবহন মন্ত্রী গাজী-আল-আরিদি বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের জানান, বিমানটিতে ৮৩ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন লেবাননের ও ২২ জন ইথিওপিয়ার, দুই জন ব্রিটিশ এবং বাকিরা ছিলেন কানাডা, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইরাক ও সিরিয়ার নাগরিক।
লবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের সামরিক মুখপাত্র কর্নেল ডিয়েগো ফুলকো বলেন, উপকূলীয় টাস্কফোর্সের দুটি জাহাজ ঘটনাস্থলে রয়েছে, আরেকটি পথে আছে। জাতিসংঘের দুটি হেলিকপ্টারও সেখানে রয়েছে। এছাড়া, সাইপ্রাস পুলিশের একটি হেলিকপ্টার ও সাইপ্রাসে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার সেখানে রয়েছে বলে জানা যা য় ।
এ ঘটনায় লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল সুলায়মান বলেন- আমার মনে হয় না এই দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এই মূহুর্তে কোনো স্যাবোটাজের ঘটনা অসম্ভব মনে হচ্ছে। তবে পরে তদন্তে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
ইথিওপিয়ার শত শত মানুষ লেবাননে গৃহকর্মীর কাজ করেন। লেবাননে কর্মরত শত শত ইথিওপীয় গৃহকর্মীদের নিয়ে এই এয়ারলাইন্সের বিমান নিয়মিত চলাচল করে এই রুটে।
লেবাননের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটির কিছু যাত্রী মূলত অ্যাঙ্গোলায় যাচ্ছিল। ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা, আফ্রিকার বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় ঘটনা।
এর আগে ইথিওপিয়ার এয়ারলাইন্সের ইতিহাসে সর্বশেষ বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছিলো ১৯৯৬ সালে। সে সময় ছিনতাই হওয়া একটি বিমান কমোডো দ্বীপের কাছে সমুদ্রে বিধ্বস্ত হলে ১৭৫ যাত্রীর মধ্যে ১২৫ জনই নিহত হয়।
রেডটাইমস বিডি ডটকম /রয়টার্স/আর.আর/