৪৮ বছর পর 'সিমুতং' থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু
|
|
বান্দরবান থেকে বিস্তারিত জানাচ্ছেন চবাথুই মারমা বান্দরবান, ৩১ জানুয়ারি, রেডটাইমস বিডি ডটকম: পার্বত্যাঞ্চলের মানিকছড়িতে একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র 'সিমুতং' আবিস্কারের ৪৮ বছর পর আবারও উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তবে নিরাপত্তার অভাবে যে কোন মুহুর্তে উত্তোলনের প্রস্তুতি থেমে যাওয়ার আশংকাও রয়েছে।
জানা যায়, পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও চট্রগ্রামের সীমান্তবর্তী উপজেলা, ঐতিহ্যবাহী মংরাজার আবাসস্থল মানিকছড়ি উপজেলার কালাপানি মৌজার ২১ একর ভূমির উপর ১৯৬৩ ইং সনে ব্রিটিশ কোম্পানির ‘শেল’ এবং তৎকালীন পাকিস্তান ‘পেট্রোলিয়াম লিঃ (পি.পি.এল)’ যৌথভাবে অনুসন্ধান করে এই গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিস্কার করে।
৫টি কূপের মাধ্যমে ১৯৬৯ সালে সর্ব প্রথম পরীক্ষা মূলকভাবে র্দীঘ একবছর ধরে গ্যাস ও তেল উত্তোলন করে।
এতে প্রচুর পরিমাণ তেল ও গ্যাসের মজুদের সন্ধান পাওয়া এই গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আলোচনায় সৃষ্টি হয়।
পরীক্ষামূলক ভাবে গ্যাস উত্তোলন কালে দুই নম্বর কূপটি অপ্রত্যাশিত ভাবে রিগ মিশিন সহ ভূগর্ভে তলিয়ে গেলে ফিল্ডের সকল কাজকর্ম স্থগিত হয়ে যায়।
তবে কি কারণে ভূগর্ভে তলিয়ে যায় তার তদন্ত করে কোন প্রতিবেদন করা হয়নি।
বর্তমানে সেই কূপ থেকে অঝোরে বুদ বুদ করে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় আগুনের ছোয়া লাগলেই জ্বলে উঠে।
দর্শনার্থীরা পাহাড়, জমি, পানিতে, গ্যাসের বুদ বুদ দৃশ্য দেখে অবাক হচ্ছে! এর পর ৭০ দশকে আবার কার্যক্রম শুরু হলে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।
একযুগ পর ১৯৮৩ সালে পূনঃরায় পেট্রোবাংলা “সিমুতং” চালুর উদ্যোগ নেয়।
কিন্তু সে সময়ে পার্বত্য চট্রগ্রামে বিরাজমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শান্তিবাহিনী দু’জন বৃটিশ প্রকৌশলীকে অপহরণ করলে গ্যাস ফিল্ডে কর্মরত দেশী বিদেশী প্রকৌশলীরা নিরাপত্তা জনিত কারণে কার্যক্রম বন্ধ করে চলে যায়।
প্রকৌশলীদের জরিপে দেখা গেছে, গ্যাসক্ষেত্রের ৫নং কূপে প্রচুর পরিমানে গ্যাস পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
১৯৯৪, ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০৪ সালে বিভিন্ন কোম্পানির সাথে চুক্তি ও গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে পেট্রোবাংলার সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বারবার উত্তোলন কার্যক্রম ব্যর্থ হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় গ্যাসক্ষেত্রটি অভিভাবকহীন হয়ে পরেছিল।
এর মধ্যে গ্যাসক্ষেত্রের ব্যারাকে রক্ষিত কেয়ার এনার্জি কোম্পানির উন্নত মানের মালামাল ও জেনারেটর সহ বিভিন্ন লোহার যন্ত্রাংশ গুলো পাহারাদাররা কালো বাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সর্বশেষ গত ৩ ফেব্র“য়ারি ২০০৯ ইং তারিখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একনেক সভার সিদ্ধান্তনুয়ায়ী পেট্রোবাংলা আগামী ২০১১ থেকে গ্যাস উত্তোলনের টার্গেট নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।
এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে র্দীঘ ৬৫কিঃ মিটার দূরে চট্রগ্রাম শহরের জাতীয় গ্রীডে এ গ্যাস সংযোগ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ ও উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ জব্বার সহ ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গ্যাসক্ষেত্রটি পরিদর্শন করেছেন।
বর্তমানে গ্যাসফিল্ডে মাঠ সংস্কার, ব্যারাক নির্মাণ কাজ একদিকে যেমন দ্রুত এগিয়ে চলছে তেমনি অন্যদিকে বৃহত্তর পার্বত্য চট্রগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) এ গ্যাস উত্তোলন না করার জন্য আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে।
গত ২০ মে ২০০৯ইং খাগড়াছড়ি জেলা সদরে পার্বত্য এলাকার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে তারা এ গ্যাস উত্তোলন বন্ধ রাখার দাবি জানায়।
যার কারণে আবারো উত্তোলনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
দেশের এই জাতীয় সম্পদকে সুষ্ঠ ব্যবহারের জন্য এখানে একটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করে নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলার দাবি উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।
জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ রেডটাইমস বিডি ডটকমকে জানান, বর্তমান সরকার জাতীয় সম্পদ গ্যাস’র মত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ কে সুষ্ঠ ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানোর কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। রেডটাইমস বিডি ডটকম/ প্রতিনিধি/ ই এইচ/ আই এইচ
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of redtimesbd.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. |
| |
| |
| |
|
|
|
| |
| Related News |
| No more Related News Found |
|
|
| |
|
|
|
|
| |
| |
|
|
|