ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ৬, রেডটাইমস বিডি ডটকম
বকরের মৃত্যু নিয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করছে পুলিশ। ইটের আঘাতে নয়, পুলিশের টিয়ার শেলেই মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবূ বকরের। গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের ছাত্রলীগের দুগ্রপের সংঘর্ষে পুলিশের নির্মম শিকার হন আবূ বকর।
গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এ কে এম শহিদুল হক জানিয়েছিলেন পুলিশের টিয়ার শেলে নয় ইটের আঘাতেই বকরের মৃত্যু হয়েছে।
রেডটাইমস বিডি ডটকমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে বকরের মৃত্যুর রহস্য। আবূ বকর এফ রহমান হলের ৪০৪ নম্বর কে থাকতেন। একই রুমে ঘটনার প্রত্যদর্শী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্র রেজাউল করিম রেজা রেডটাইমস বিডি ডটকমকে জানান, সোমবার রাতে যখন ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের সংঘর্ষ হয় তখন আবু বকরসহ আমরা ৪০৪ নম্বর রুমে অবস্থান করি। রাত ২টার দিকে পুলিশ ৪০৪ নম্বর কে জানালা ভেঙ্গে ৪টি টিয়ার শেল ছোঁড়ে।
তখন টিয়ার শেলের নিক্ষেপিত ধোয়ায় আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। তখন বকরসহ আমরা ৪০৪ নম্বর রুমের বেলকনিতে অবস্থান করছিলাম।
এদিকে প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের গেটে দাড়িয়ে ছিলেন। টিয়ার শেলের বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আমরা প্রক্টর স্যারকে চিৎকার করে ডাকতে থাকি। তিনি আমাদের কোন সাড়াই দিয়েছিলেন না। হঠাৎ ৫০৩ নম্বর কক্ষের বেলকনি থেকে পুলিশের ছোঁড়া টিয়ার শেল বকরের মাথার পেছনের অংশে লাগে। সে তৎক্ষনাৎ অজ্ঞান হয়ে বেলকনিতেই পড়ে যায়।
পুলিশের গোলাগুলি ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের কারণে তাকে নিয়ে বাইরে বের হওয়া অসম্ভব ছিল। এ কারণেই আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় প্রায় ৩৫ মিনিট নিথর হয়ে পড়ে থাকতে হয় বকরকে। তার মাথা থেকে প্রচুর পরিমাণ রক্তরণ হতে থাকে। এ সময় আমরা তাকে একটি বিছানার চাদর দিয়ে মাথা বেঁধে দেই।
ওদিকে প্রক্টর স্যারের কাছে এ্যাম্বুলেন্সের আবেদন জানানোর অনেক পরে এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।
তার অস্ত্রপাচার করার আগে সে কয়েকবার বমি করে এবং ডাক্তার আশঙ্কা বোধ করে আমাদের বলেছিলেন তার অবস্থা ভালো নয় তার মা-বাবাকে খবর দেওয়ার জন্য বলেন। পরে ডাক্তারের আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হয়।
আবূ বকরের অপর রুমমেটরা হলেন ইমরুল হাসান (ইংরেজী চতুর্থ বর্ষ), সোলায়মান (বাংলা এম.এ), আনিসুর রহমান (ইসলামের ইতিহাস), আলমগীর হোসেন (ইসলামের স্টাডিজ), শিয়াব উদ্দিন (এম.বি.এ), সাইদুর রহমান শিপু (ইসলামের ইতিহাস ৪র্থ বর্ষ)।
তারা ঐ সময়ই এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। প্রত্যেকেই রেডটাইমস বিডি ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন, পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেলেই তার মৃত্যু হয়েছে। ইটের আঘাতে বকরের মৃত্যু হয়েছে এটা জঘন্য মিথ্যাচার।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এ কে এম শহিদুল হকের বক্তব্য
গতকাল শুক্রবার তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবূ বকরের মৃত্যু টিয়ার শেলের আঘাতে নয় ইটের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে।
মন্তব্য প্রতিবেদন
সরেজমিনে আবূ বকরের মৃত্যুর রহস্য উৎঘাটন করতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী তার রুমমেটরা যা জানালেন তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, আবু বকরের মৃত্যু পুলিশের ছোড়া শেলের আঘাতেই হয়েছে। এটা নিয়ে পুলিশ কমিশনার যে জঘন্য মিথ্যাচার করছেন তা কোনভাবই মেনে নেওয়া যায় না।
আলামত
সরেজমিনে রেডটাইমস বিডি ডটকমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের ৪০১, ৪০২, ৪০৩ ও ৪০৪ এবং ৫০২, ৫০৩ ও ৫০৪ নম্বর করে প্রত্যেকটি জানালার কাঁচ পুলিশের রাইফেলের আঘাতে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এখনও সেই ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো জানালার নিচে রুমের ভেতর পড়ে আছে।
যে রুমের বেলকনি থেকে আবূ বকরের উদ্দেশ্যে ছোড়া শেল নিক্ষেপিত হয়েছিল ঐ রুমের ছাত্র সামাদ জানান, ‘ঘটনার সময় হলের তিন তলায় অবস্থান করছিলাম। পুলিশ বিপ্তিভাবে ভাংচুর ও টিয়ার শেল ছোড়ে। পরে আমার রুমমেট আমিনুল ইসলাম বিপ্লব (এম এ), উজ্জ্বল ও জাহিদ হাসান প্রাণের ভয়ে ৫ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে। তাদের অধিকাংশের মাথা ও হাত, পাঁ ভেঙ্গে গেছে। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
সামাদ রেডটাইমস বিডি ডটকম কর্তৃপরে কাছে পুলিশের ছোড়া একটি শেল দেখান। তা দেখে বোঝা গেছে , দশ হাত দূরে থেকে ছোড়া শেলের আঘাতেই বকরের মৃত্যু হয়।
বকরের সেই ৪০৪ কক্ষ
আবূ বকরের রুমমেট রেডটাইমস বিডি ডটকমকে দেখালেন, আবূ বকরের একটি ঘিয়ে রংয়ের রক্তমাখা প্যান্ট। বেলকনির দেয়ালে ও দরজায় ছপছপ রক্তের চিহৃ। যা এখনও অক্ষত রয়েছে।
রেডটাইমস বিডি ডটকম/এসডি/আরএস/ওও