E-mail this to a friend Printable version
 

এড়ে দৌগাছিয়া গ্রামবাসি বিপুল বাহিনীর হাতে জিম্মি

fffযশোর,জুলাই ২৫,রেডটাইমস বিডি ডটকম
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির এড়ে দৌগাছিয়া গ্রামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন প্রায় দু’ডজন পরিবার। অস্ত্রের মহড়া চলছে প্রতিরাতে।

আতংকে রয়েছে সাধারণ মানুষ। যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নটি ৯০এর দশক থেকে আন্ডার ওয়াল্ড ও চোরাকারবারীদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। ২০টি গ্রামের সমন্নয়ে এ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এ পর্যন্ত নিজ নামে ১০/১২ টি অনস্ত্রধারী বাহিনী গঠিত হয়েছে।

 জানামতে বিগত দিনে এসব বাহিনীর অনেকেই প্রতিপক্ষ ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হলেও এদের কর্মকান্ড কখনই থেমে থাকেনি।

ঘটনাক্রমে এদের কর্মকান্ড কিছুদিন স্থবির থাকলেও পরবর্তীতে তা আবার সচল হয়ে ওঠে। ঠিক তেমনি গত বছরের ১০ অক্টোবর রাতে প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হন ছোট দৌগাছিয়া গ্রামের কুখ্যাত ডাকাত ও একাধিক মামলার আসামী পিকুল।

 সন্ত্রাসীরা তাকে গ্রামের এক ব্যক্তির ধরে ঘুমন্ত অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বিপুল বাদী হয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় ছোট দৌগাছিয়াসহ ইউনিয়নের ৪/৫ টি গ্রামের ১৬ জনকে আসমী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মূলত ওই সময় থেকেই দৌগাছিয়া গ্রামে শুরু হয় নিহত বিপুল বাহিনীর তান্ডবলীলা।

রাতের আধারে সংঘবদ্ধ দলটি গাছিদা, রামদা, হকিস্টিক হাতে নিয়ে মহড়া দিতে থাকে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে। অস্ত্র উচিয়ে খুজতে থাকে পিকুল হত্যা মামলার আসামীদের। অত্যাচারের স্টীম রুলার চালাতে থাকে আসামীদের পরিবারের উপর। বিপুল বাহিনীর অব্যাহত এসব অত্যাচারের ফলে, মামলার আসামী ও তাদের পরিবার ওই সময় থেকেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

সূত্র জানায়, পিকুল হত্যার পর দৌগাছিয়া গ্রামের ছলেমানের উপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করা হয়েছে। চাঁদাবাজিসহ তাকে ধরে বেধরক মারপিট করা হচ্ছে প্রতিনয়ত। এদের পাশাপাশি গ্রামের মকবুল, শওকত, ইমান, রফি ও তার এক ভাতিজিও মারপিঠের শিকার হয়েছে। শুধু মারপিঠ করেই তারা ক্ষান্ত হচ্ছেনা। তারা গভীর রাতে কাধে রামদা ঠেকিয়ে বিভিন্ন বাড়ির মহিলাদেরও উত্যক্ত করছে। ফলে, গ্রমে বসবাসরত সাধারণ মানুষ রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতেও বাইরে বের হচ্ছে না।

এসব ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে শনিবার সরেজমিনে দৌগাছিয়া গ্রামে গেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। গ্রামের প্রায় ২০টি পরিবারের বাড়ি ঘর শূন্য পড়ে আছে। মনুষ শুন্য এসব বাড়িতে ঘাস জমানোর উপক্রম। কথা হয় গ্রামের অনেকের সাথে ঘটনার কারণ কি জানতে চাইলে তারা কিছুই বলতে চাচ্ছে না। শুধু বলে এখানে কিছুই ঘটছে না।

 তবুও এর রহস্য উদঘাটনে গোপনে কথা হয় অনেকের সাথে। তারা জানায়, ওদের বিরুদ্ধে কথা বললে হয় গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে অথবা খুন হয়ে পরপারে চলে যেতে হবে। বর্তমানে এদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাবে না বলেও উল্লেখ করেন।

এদিকে পিকুল হত্যার পর মামলার বাদী অর্থাৎ পিকুলের ভাই বিপুল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পাশাপাশি অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি শুরু করেছে। মামলার আসামীদের কাধে অস্ত্র ঠেকিয়ে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দিয়ে দেওয়ার কথা বলে আদায় করেছে কয়েক লক্ষ টাকা।

এছাড়া অনেকের মালালার চার্জশিট জড়িয়ে আসামী করার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছে। বিপুল বাহিনীর এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষতো দুরের কথা খোদ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও এদের কাছে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হচ্ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।

 তারা জানান, বিপুল বাহিনীর কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ভাটা পড়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এলাকাবাসী সন্ত্রাসী বিপুল ও তার সদস্যদের বিরুদ্ধে জরুরীভাবে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে স্বল্প সময়ের মধ্যে আরো বড় ধরনের অপরাধ সংগঠিত হবে বলে তারা আশংকা করছেন। এ ব্যাপারে তারা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
রেডটাইমস বিডি ডটকম/প্রতিনিধি/ওও/এসডি







WARNING: Any unauthorised use or reproduction of redtimesbd.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.

 
 
 
Bookmark with:  
    GoogleFacebook  GoogleGoogle    
 
More News
 
Related News
No more Related News Found
 
 
 
 
কৃষি ও কৃষকের গল্প
বিনোদন উপাখ্যান
 
 
The REDTIMESBD is not responsible for the content of external internet sites.
 
News Sources Contact Us
About redtimesbd.com Terms of Use  
Advertise With Us Privacy & Cookies  
Sitemap Developed By Mamunur Hossen